
শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (ইউএইচ অ্যান্ড এফডব্লিউসি) সংস্কার কা
জে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এইচইডি/জেএইচডি/জিওবি-এমইএফডব্লিউ/২০২৫-২৬/০৫ প্যাকেজের (টেন্ডার আইডি-১১৮২৬৫৩) কাজটি করছে ঝিনাইদহের মেসার্স আলামিন কনস্ট্রাকশন, চাঁদপাড়া, ঝিনাইদহ।
প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্লিনিক ও কোয়ার্টারের রুটিন ও পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মধ্যে রয়েছে ২৭৩ বর্গমিটার প্লাস্টার, ৮.৯৬ ঘনমিটার আরসিসি প্যাড নির্মাণ, ৪টি দরজার পাল্লা পরিবর্তন, ৫১১.৮৩ বর্গমিটার ওয়েদার কোট, ২২৬.৪৮ বর্গমিটার এনামেল পেইন্ট, ৯১৪.৮৯ বর্গমিটার প্লাস্টিক পেইন্ট, দরজা-জানালা মেরামত, স্যানিটারি ফিটিংস পরিবর্তন, সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং, ফ্যান, টিউবলাইট ও সুইচ-সকেট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ।
তবে স্বরেজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, সংস্কার কাজের বেশ কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সিডিউল ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সম্পূর্ণ সংস্কারের পরিবর্তে আংশিকভাবে দায়সারাভাবে প্লাস্টারের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যেখানে প্লাস্টিক পেইন্ট করার কথা, সেখানে ডিস্টেম্পার রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দরজা-জানালা, স্যানিটারি ফিটিংসসহ অন্যান্য সংস্কার কাজেও নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না। সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজে এমন অনিয়ম হলে ভবিষ্যতে স্থায়িত্ব ও জনসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী এস এম শামীম হোসাইন বলেন, “প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও সুবিধার বিষয় বিবেচনা করে কিছু কাজের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রকল্পের নির্ধারিত সিডিউল ও নকশার বাইরে গিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হলেও তা যথাযথ যাচাই ও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মহেশপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, কাজের গুণগত মান নিয়ে কিছু অসঙ্গতি আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের বিভিন্ন ত্রুটি সম্পর্কে বারবার অবগত করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি সহজভাবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তদারকি ও যথাযথ ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন তারা। তাদের মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ শেষ হওয়ার আগে প্রতিটি ধাপ যাচাই করে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ উন্নত হবে।
শহিদুল ইসলাম মহেশপুর ঝিনাইদহ।।