
হেলাল শেখঃ বাংলাদেশে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক চাপ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বাঁধার মুখোমুখি হন।এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে।
১. ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে সাংবাদিকরা যখন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন করেন, তখন সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা মামলা করে। ২. রাজনৈতিক মেরুকরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত। রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন বা নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন পক্ষের হামলার শিকার হন।
৩. আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ মানহানি, ডিজিটাল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন কিংবা অন্যান্য ফৌজদারি মামলায় সাংবাদিকদের জড়ানোর অভিযোগ বহুবার উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও তদন্তের ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
৪. দায়মুক্তির সংস্কৃতি সাংবাদিকদের ওপর হামলার অনেক ঘটনায় দ্রুত বিচার বা শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। ফলে হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ৫. তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়, অনুষ্ঠান কাভারেজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় বা প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়।
৬. মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা হামলা শুধু রাজনৈতিক কর্মী বা অপরাধী চক্র থেকেই নয়, কখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ বা বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
করণীয়ঃ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
পেশাগত কাজের জন্য দায়ের হওয়া মামলাগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। সাংবাদিক সংগঠন, রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়: এটি জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব।