
বান্দরবান থানচি প্রতিনিধি: মথি ত্রিপুরা।
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩৮বিজিবি) পরিচালিত এক দু:সাহসিক অভিযানে মাধ্যমে স্হানীয় সশস্ত্র গ্রুপ কতৃর্ক অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মো: আমু হোসেন (৫০)-কে উদ্ধার করা হয়েছে । এসময় অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধারসহ অপহরণকারীর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রো(২৬)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়।
জানা যায়,গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্হানে নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবননাশের আশংঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে পরিস্হিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।ভিকটিমের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়।ঘটনার গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন(৩৮ বিজিবি)- এর অধিকনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মো: জাকির হোসেনের নেতৃত্বের বিজিবি একটি চৌকস অভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ,পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। ভিকটিমের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণকারীদের শনাক্ত ও আটক, মুক্তিপণের অর্থ উদ্ধার এবং কোনো ধরনের পার্শ্বক্ষতি ছাড়াই পুরো অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা এই সকল বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে থানচি উপজেলা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যামনি পাড়া গভীর রাতে অত্যন্ত কৌশলগত ও দু: সাহসীক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদার মো :আমু হোসেনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একইসাথে অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্হল থেকে আটক করা হয়।এছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ ) টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ঠিকাদারকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ঠিকাদারের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অত্র এলাকার কর্মকান্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পার্বত্য অঞ্চলে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমগ্র এলাকায় সকল সংস্থার সমন্বিত নজরদারিতে পর্যবেক্ষণের রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের ও পর্যটনবান্ধব নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।