
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দেশপ্রেম, মেধা ও মানবিকতায় উজ্জ্বল এক শিক্ষকের অনন্য অর্জন
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ৮২নং মালদিয়া কাশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান জুয়েল জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা, আধুনিক ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিরলস প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘদিনের সফল কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ গৌরবজনক সম্মাননা অর্জন করেন।
স্থানীয় শিক্ষা মহলের মতে, এই অর্জন শুধু একটি স্বীকৃতি নয়—এটি মেহেদী হাসান জুয়েলের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার ফল। তিনি এমন একজন শিক্ষক, যিনি পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মেহেদী হাসান জুয়েল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সুশৃঙ্খল, ভদ্র ও আদর্শবান একজন শিক্ষার্থী। প্রাথমিক বিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি অসাধারণ ফলাফল করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের নজর কাড়েন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও তিনি ধারাবাহিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা সম্পন্ন করে তিনি নিজেকে একজন মানবিক, শিক্ষানুরাগী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় এসে সেই মেধা, সততা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর পাঠদান পদ্ধতি শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক নয়; বরং জীবনমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পিতৃসুলভ আচরণ, আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল মনোভাব অভিভাবকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
শ্রেণিকক্ষে তিনি শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি করেন। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, মেহেদী হাসান জুয়েলের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের মূল প্রেরণা তাঁর পরিবার। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম শেখ, যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও অংশগ্রহণ করলেও আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আসতে পারেননি বলে জানা যায়। তাঁর সঙ্গে একই সময়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকেই বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা পেলেও তিনি এখনো বঞ্চিত রয়েছেন।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের মতে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া ইতিহাস ও ত্যাগের প্রতি এক ধরনের অবমূল্যায়ন।
স্থানীয় বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন মুন্সি বলেন,
জাহাঙ্গীর আলম শেখ সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। তিনি দেশের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ত্যাগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর ছেলে জুয়েলের এই অর্জন আজ আমাদের গর্বিত করেছে।”
অভিভাবক রাশিদা বেগম বলেন, মেহেদী হাসান জুয়েল শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন আদর্শ মানুষ। তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা রয়েছে, যা তিনি তাঁর পরিবার থেকেই পেয়েছেন।
পারিবারিক জীবনে মেহেদী হাসান জুয়েল একজন দায়িত্বশীল ও শিক্ষানুরাগী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর সহধর্মিণী ফাতেমা তুজ জোহরা শারমিন একজন এমপিওভুক্ত কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এই দম্পতি সমাজে শিক্ষাবান্ধব ও আদর্শ পরিবার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁদের সংসারজুড়ে রয়েছে কন্যা সন্তান জেরিন তসলিম, যাকে ঘিরে তাঁদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও গভীরভাবে বিস্তৃত।
বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব মো: খলিলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকির মিরাজ আলী শেখ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি) দেশের দক্ষিণ অঞ্চল প্রধান কার্যালয় জলিরপাড়ের সকল গণমাধ্যম কর্মীগণ এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন,
মেহেদী হাসান জুয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো মুকসুদপুর উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনের জন্য গর্বের বিষয়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন।
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মেহেদী হাসান জুয়েল বলেন,
এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। একজন শিক্ষকই পারে একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে। আমার বাবার দেশপ্রেম ও সততা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।
এদিকে এলাকাবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম শেখসহ অন্যান্য বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।