
এম এস সাগর,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার ২টি ইউনিয়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে বিল উত্তোলন করে আত্মসাত এবং ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়নে অর্থবছর ২০২৪-২০২৫খ্রি. প্রকল্প টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ দেশের ৩০জেলার ৯৮টি উপজেলায় কাজ শুরু হয় এবং কাজও সমাপ্ত হয়।
কুড়িগ্রামের দক্ষিনে চিলমারী রমনা নদীবন্দর থেকে ফেরিতে অথবা নৌকায় ব্রমপুত্র নদে ওপরে দীর্ঘ তিন ঘন্টা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিবাহিতের পৌঁছাতে হয় রাজিবপুরের কুত্তি মারি ঘাটে। দেশের সর্বোচ্চ দারিদ্রতম উপজেলা চর রাজিবপুর ও ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং ব্রমপুত্র নদীর ভাঙ্গনে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে বিল উত্তোলন করে আত্মসাত করাসহ ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির তথ্যনুসারে, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে ২২৯টি এবং কোদালকাটি ইউনিয়নে ২২৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ গত অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়ধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা কে ম্যানেজ করে বিল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে উপজেলা জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ছাদের ঢালাই, সিমেন্ট পরিমাণের কম ব্যবহার, উন্নতমানের খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ, মাটি-বালির উপরে বেইজ ঢালাই, বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি, চর গাজীপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নে অজ্ঞাত সাব কন্ডাক্টর ও পতিত আওয়ামী লীগের দোসর কয়েকজন সাব-কন্ডাক নিয়ে চর রাজিবপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী চন্দ্র কিশোর রায় এর সাথে যোগসাজশ করে অর্থবছর ২০২৪-২০২৫খ্রি. টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজের মেয়াদ অতিবাহিত হলেও এখনো ২টি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায়-প্রতিটি বাড়িতে ৬টি টিন এবং সেফটি ট্যাংকের স্লাব দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চর রাজিবপুর উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বেষ্টিত চলাঞ্চলের ২টি ইউনিয়নে ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাব কন্ডাক্টর পতিত আওয়ামী লীগের কর্মীরা চর রাজিবপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহকারী প্রকৌশলী চন্দ্র কিশোর রায় কে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বিল উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।
মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নে হবিবর মোল্লা, কোহিনুর বেগম, সাহের আলী, শহিদুল মোল্লা, শাহজাহান শেখ, হাওয়া বিবি, আলী আজগরসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতির কারনে সাব কন্ডাক্টর আওয়ামী লীগ নেতারা গত ৬মাস আগে ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজে শুধুমাত্র টিন ৬টি ও সেফটি ট্যাংকের কয়েকটি করে স্লাব দেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত ল্যাট্রিন নির্মাণ করে নাই। ল্যাট্রিন নির্মাণের নামে জনপ্রতি ৫হাজার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন। বাড়িতে ল্যাট্রিন না থাকায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। পরিবারের বাদে দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগ বালাই।
চর রাজিবপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে একটি উপজেলা। সামান্য কিছু সমস্যা রয়েছে। সাক্ষাতে কথা বলেন।
কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) (অতি.দা.) এহতেশামুল রাসেল খান বলেন, আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। অধিদপ্তর থেকে তদন্ত টিমের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।