
আজিজুল ইসলাম,বেনাপোলঃ দালালের প্রলোভনে পড়ে ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি-বিএসএফ), পুলিশ ও মানবপাচার প্রতিরোধ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা নারীরা হলেন—লিমা ফিরোজ শাইখ ওরফে মিম ফিরোজ শাইখ: নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বনগ্রামের মারুফ হোসেনের মেয়ে। রাজিয়া খাতুন মালা ওরফে সতী শুভাশ দাস: ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার চর মহিষাপুর গ্রামের সোলাইমান মন্ডলের মেয়ে।
ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের নথি ও ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী দুই নারী ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যান। পরে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে আদালতের নির্দেশে তাদের মুম্বাইয়ের মহারাষ্ট্র শেল্টার হোমে রাখা হয়।
পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ফেরত আসা নারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই দুই নারীকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’।
সংস্থাটির ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান:”ফেরত আসা নারীদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা বেনাপোলে এসে পৌঁছানো না পর্যন্ত এই দুই নারী আমাদের সংস্থার হেফাজতেই নিরাপদ থাকবেন।”