
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা (তরিকুল ইসলাম তরুন):
কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য নির্মিত শতকোটি টাকার আধুনিক বিশ্রামাগারটি অবশেষে চালুর পথে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা এই প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এর আগে বিশ্রামাগারটির অরক্ষিত অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ওঠে। ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা তৈরি হয় চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে।
পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা খন্দকার জানান, তহবিল সংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে প্রায় দুই মাস পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বিশ্রামাগারটি চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইজারাদার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং এক বছরের জন্য চুক্তির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা এবং লরি ও ট্রাকচালকরা। তাদের মতে, বিশ্রামাগারটি চালু হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং যানবাহন ও পণ্য নিরাপদ থাকবে।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্রামাগারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে কাজের অগ্রগতি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি একটি মানবিক উদ্যোগ। প্রতিদিন হাজার হাজার চালকের জন্য এটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে।”
তবে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশাল এলাকাটিতে বর্তমানে মাত্র দুইজন পাহারাদার দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঝে মাঝে অসাধু চক্র সেখানে মাদকের আসর বসানোর চেষ্টা করে। তাই বিশ্রামাগার চালু হলেও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই বিশ্রামাগারটি চালকদের জন্য একটি আদর্শ ও নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।