
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসি-এর প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে ফুসে উঠেছে জনগণ।
আজ ২৮ মার্চ, শনিবার সকাল ১০টায় গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি’র ব্যানারে ড্যাংপাড়া ৫ পাঁচ মাথার মোড়ে কাফনের কাপর বেঁধে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিটারের নামে ‘বিদ্যুৎ-সন্ত্রাস’ ও অস্বাভাবিক বিলের প্রতিবাদে শ শ জনতা নেমে আসেন।
মানববন্ধনে তহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস-এর সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন,
“ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনস্বার্থ বিরোধী বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছে।
পৃথিবীর কোথাও জনসেবামূলক বিদ্যুৎ খাত এভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণ বা বেসরকারি স্বার্থে পরিচালিত হয় না। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিকট আমাদের দাবি—এই জুলুমবাজ প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা অবিলম্বে বাতিল করুন। হয় আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে মিটার অপসারণ করুন, না হয় আমাদের হত্যা করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিন।”
“একটি সাধারণ গ্যারেজে প্রিপেইড মিটার বসানোর পর আমাকে লক্ষাধেক টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা বিল আসছে যা অসম্ভব।
বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রতিকার পাওয়ার বদলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হুমকি-ধামকি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।” তার মতো শত শত গ্রাহক অযৌক্তিক চার্জ ও দ্রুত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাধারণ মানুষকে শোষণ করার এই নীল নকশা বন্ধ করতে হবে। স্থাপিত প্রিপেইড মিটার অবিলম্বে অপসারণ করে এনালগ বা পূর্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করতে হবে, ৫০-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের একই স্বল্পমূল্য নির্ধারণ করতে হবে এবং মিটার ভাড়া ও গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া ডিমান্ড চার্জ বাতিল করতে হবে। অফিসে অভিযোগ করে সুফল পাওয়া যায় না, গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এটি জনদুর্ভোগ ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। গোদাগাড়ীতে সরকারি অফিসে পোস্ট-পেইড মিটার চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রিপেইড মিটার। এতে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত বিলের বোঝা বাড়ছে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের মিটার স্থাপন বন্ধ করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটা বন্ধ করা না হলে নেসকোর কোন কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অফিস করতে দেয়া হবে না। দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। জরিপ ছাড়া জোরপূর্বক গ্রাহকদের ওপর এই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
প্রিপেইড মিটারে মাঝেমধ্যে ভুতুড়ে বিল আসে। কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় ব্যালেন্স না দেখা যাওয়া, রিচার্জ করার পরও ইউনিট না পাওয়া, সার্ভার সমস্যায় অকেজো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। মিটার নষ্ট হলে বদলি হিসেবেও প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রিচার্জ করার সময় অতিরিক্ত ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে। বয়স্ক ও অশিক্ষিতদের জন্য এ মিটার ব্যবহার জটিল হয়ে পড়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় নগরবাসী কঠোর আন্দোলনে নামবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা ও গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ মাহাবুবুর রহমান বিপ্লব,
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ বরজাহান আলী পিন্টু,
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গোদাগাড়ী শাখার সাধারন সম্পাদক ইউসুফ আলি,
জেলা যুবদলের সদস্য মোঃ রানা, সদস্য প্রমূখ ।
মোঃ হায়দার আলী,
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।