বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
Title :
সুজানগর কৃষকদলের সদস্য সচিব মজিদ মন্ডলের বহি/ষ্কাদেশ প্র/ত্যাহার সুজানগরে আশার উদ্যোগে সদস্যের অ/বসর ভা/তা প্রদান তানোরে ক্ষু্দ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বি/তরণ ধামইরহাটে প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ মালেকের উপর হা/মলা, থানায় মা/মলা দায়ের ইলুহারে অ/বৈধ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদে অ/ভিযান, ডিলারকে জ/রিমানা সীমান্তে আটক দুই শিক্ষার্থী ৮ ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকে ফে-রত গোপালগঞ্জে টিআরসি পদে নিয়োগ কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিন স/ম্পন্ন জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে ফিলিং স্টেশনে অ/নিয়মের অভিযোগ, বাইকারদের বিক্ষো/ভ আশুলিয়ায় কিশোর গ্য/াং কর্তৃক ৮ম শ্রেণীর ছাত্র হ/ত্যা: ২০ মাস পর টাঙ্গাইল থেকে লা/শ উত্তোলন ময়মনসিংহের ভাবখালীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করলেন বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডায়েরি তুলে দিয়ে সম্মাননা: স্মৃতি সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৩ Time View

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামে মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে ধারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ। নগরীর হালিশহরের জে.পি কনভেনশন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে খালি ডায়েরি, যেখানে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও অনুভূতি লিপিবদ্ধ করবেন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সাঈদ আল নোমান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সময়ের প্রবাহে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির গর্ব ও অহংকার। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন। কিন্তু তাঁদের অনেক অজানা গল্প এখনো অপ্রকাশিত রয়ে গেছে, যা সংরক্ষণ করা জরুরি।”

তিনি আরও জানান, “প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার হাতে একটি করে ডায়েরি তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজের ভাষায় তাঁদের যুদ্ধদিনের স্মৃতি, ত্যাগ ও স্বপ্ন লিখে রাখতে পারেন। পরবর্তীতে এসব লেখা সংকলন করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য ও চিরঋণ। তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং তাঁদের জীবনগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই উদ্যোগ সেই দায়িত্ব পালনের একটি কার্যকর প্রয়াস।”

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. ছিদ্দিক আহম্মেদ, এম এ সবুর, শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন বক্তব্য রাখেন। তাঁরা মতামত দেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে জীবন্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত স্মৃতি লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে এক বিশাল ঐতিহাসিক ভাণ্ডার গড়ে উঠবে, যা গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।

আয়োজকরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা ডায়েরিগুলো সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে সম্পাদনা ও প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অনেক দিক সামনে আসে।

স্বাধীনতার দীর্ঘ পথচলায় এমন উদ্যোগ স্মরণ করিয়ে দেয়—ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং তা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণযোগ্য এক অমূল্য সম্পদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin