
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৬ ভিজিএফ কার্ড বরাদ্ধ কার্ড প্রতি ১০ কেজি চাউল বিতরণ করা হয়েছে। লাখপ্রতি, ধনী, হোন্ডা, ফ্রিজ, ছাঁদপিটা বাড়ীর মালিক, স্বচ্ছ পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে ভিজিএফএর ১০ চাউল পেলেও জুটেনি পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী বাড়ী মহল্লার তাহেরা বেওয়ার (৫০) এর ভাগ্যে। এ তাহের বেওয়া হলেন, মৃত্যু মওঃ এরফানুল হকের ছোট বৌমা, মৃত্যু আব্দুল্লাহর স্ত্রী। বেশ কয়েক বছর আগে
কুকুরে কামড়ে মারা যান আব্দুল্লাহ। তার পর থেকে স্বামীর বাড়ীতে অসাহায় ছেলে সুমন, ইমন, মেয়ে লিমাকে নিয়ে খুব কষ্ঠে আত্নীয়স্বজন, এলাকাবাসীর সহযৌগিতায় কোন প্রকারে জীরণ ধারণ করে। লিমার বিয়ে হয়েছে। এমন অনেকের ভাগ্যে জুটেনি চাউল।
এদিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য গোদাগাড়ী পৌরসভার বিশিষ্ট সমাসেবক আহম্মেদ পারর্সেল কুরিয়ার সার্ভিসের মালিক, বিএনপির নেতা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতি বছর ঈদে সেমাই চিনি বিতরণ করেন। এবারও করেছেন কিন্তু সেই সেমাই চিনি জুটেনি বিধবা তাহেরা বেওয়ার ভাগ্যে।
সেমাই চিনি ও ভিজিএফ এর চাউল না পাওয়ার ব্যপারে গোদাগাড়ী পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহঃ সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক গোলাম কিবিরিয়া রুলুর সাথে একাধিকবার মোবাইল করে তাকে পাওয়া যায় নি এমন কি খুদে বার্তা দেয়ে উত্তর পাওয়া যায় নি।
এ ব্যপারে তাহেরা বেওয়ার সাথে কথা হলে তিনি ক্ষোভ করে জানান, কয়েকজনকে ভোটার আইডি কার্ড দিয়েছি, কিন্তু ভিজিএফ এর ১০ কেজি চাউল পেলাম না। রুলুর সেমাই চিনি পেলাম না। কোটিপতি, লাখ প্রতি, জমির মানিক, রাজকীয় বাড়ী, দোকানের মালিক পেলেও আমি ও আমার সন্তানদের ভাগ্যে ছুটেনি। এর বিচার আল্লাহ নিকট ছেড়ে দিলাম।
গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী ও সচিবের দায়িত্ব পালনকারী সারোয়ার জাহান মুকুল জানান, গরীব বিধবা ভিজিএফর চাউল না পাওয়া খুবই লজ্জার ব্যপার। পৌরসভায় ৪ হাজার ৬ শ ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্ধ ছিল। এর মধ্যে বিতরনের জন্য বিএনপি নেতাদের ১ হাজার ৬ শ ৫০ টি, জামায়াতের নেতাদের দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৬ শ ৫০ টি এবং বাকী ১৩ শ কার্ড প্রশাসক হিসেবে ইউএনও বিতরণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, ওই বিধবার বাড়ীর পাশের নেতারা কার্ড নিয়ে গিয়ে গেছে। যদি তাকে না দেয় তা খুবই দুঃখজনক। আগামী ঈদে তিনি যেন বাদ না পড়ে সেদিকে নজর দিব।
রাজশাহী জেলা জামায়তের সেক্রেটারি ও গোদাগাড়ী পৌরসভার জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. ওবাইদুল্লাহ জানান, ঈদের আগে একজন বিধবা ভিজিএফর ১০ কেজি চাউল পাবে না এটা হয় না। এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এগুলি তো গরীব, দুস্ত, অসাহায়দের জন্য বরাদ্ধ। তারা না পেয়ে কোন ধনী, দালান বাড়ী, ফ্রিজ, হোন্ডার, ব্যবসায়ী মালিক পেয়ে থাকেন তবে যারা বিতরণ করেছেন ওই সব নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সে যদি আমাদের দলের লোক হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে একই শান্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সচেতনমহল তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।