সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

আমি জি-ম্মি নই স্বামীই আমাকে এক পরিচিত আপার কাছে রেখে গেছেন-সংবাদ সম্মেলনে ওই নববধূ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ২১১ Time View

মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু,
জয়পুরহাট প্রতিনিধি।।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নববধূকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক তরুণী। তিনি দাবি করেছেন, তাকে কেউ জিম্মি করেনি এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেনি। বরং তাকে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার স্বামী লিটন হোসেন ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই নববধূ বলেন, “আমি কোনোভাবেই জিম্মি ছিলাম না। বিপদে পড়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আমার স্বামী লিটন হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার করছেন।”

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে লিটন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় সাত মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। পরে লিটন কুষ্টিয়ায় ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে প্রায় তিন মাস সংসার করেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পরবর্তীতে গত রোববার (৯ মার্চ) লিটনের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ওই তরুণী ক্ষেতলাল উপজেলা সদরে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান। স্থানীয় ব্যক্তিরা উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন রেজিস্ট্রারের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের পুনরায় কাবিন সম্পন্ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “বিয়ের পর লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে ম্যানেজ করার কথা বলে আমাকে এক পরিচিত আপার কাছে রেখে বাড়িতে যান। কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের কেউ আমাকে জিম্মি করেনি। এখানে আমাকে জিম্মি করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে জিম্মি করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমি এক প্রতারকের চক্রান্তের শিকার হয়ে ক্ষেতলালে এসে বিপদে পড়েছিলাম। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তারা আমার অসহায়ত্ব বিবেচনা করে আমাকে চেয়ারম্যান, পুলিশ ও ইউএনও ম্যাডামের কাছেও নিয়ে গেছেন। তাদের সহায়তায় আমি ন্যায্য বিচার পেয়েছি।”

ওই তরুণী আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন লিটনের আগেও একটি স্ত্রী রয়েছে, যা তিনি আগে জানতেন না। “এখন যেহেতু বিষয়টি জেনেছি, তার সঙ্গে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান হয়েছে এবং আমি আমার নিজ বাড়িতে ফিরে যাব।

এদিকে নববধূকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে মামুদপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতা আবির ইফতোখারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিউজ করার আগে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। যাচাই-বাছাই না করেই আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিএনপির মানক্ষুন্নের অপচেষ্টায় যারা মিথ্যা নিউজ ছড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। আসলে ওই আপু বিপদে পড়ে আমার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন, আমি মানবিক কারণে তাকে সহযোগিতা করেছি।” সুতরাং আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অভিযুক্ত স্বামী লিটন মোল্লা দাবি করেন, “আমার স্ত্রীকে তারা জিম্মি করে রেখেছিল।” তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, “না, আমি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিইনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “এ বিষয়ে একজন মেয়ে আমার কাছে এসেছিল। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ছেলে বা মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নববধূ দাবি করেন, তার প্রতারক স্বামী অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin