
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ আজ ২৭ জুলাই সোমবার সকাল ১০ টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সন্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন সভায় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক, মোঃ সাইদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম শাওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সমাজ সেবা অফিসার আব্দুল মানিক, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুর রহমান, উপজেলা জামায়তের আমীর নুমান আলী মাষ্টার, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী, আফজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান সহ জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দপ্তরের প্রধানগণ সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে, আলোচনা সভা করা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা হবে। মাদকব্যবসায়ী, সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে, কোনভাবে যেন ছাড় না পায়, চার্জশিট, জামিনের ব্যপারে কোন সুযোগ না পায় সে ব্যপারে পুলিশকে নির্দেশনা দেন। সরকারী রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ঘরবাড়ী নির্মান করা হচ্ছে এটা কোনভাবে কাম্য নেই।
কিছু কায়েমি মাদ্রসায় হুজুরদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে এসব মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে মাদ্রাসা পরিদর্শন করারও নির্দেশনা দেন।
বিদিরপুর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল হাই বলেন, মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানার পরিষদে মাসের পর মাস ধারাবাহিকভাবে অনু উপস্থিতির কারণে মাদক চোরাকারবারী, পুশ ইন সহ বিভিন্ন জরুরী কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যায় না। মেম্বারদের মোবাইল করা তারা বলেন, এটা আমার কাজ নয়। অন্য মেম্বারগন মোবাইল ধরেন না। এটার সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা মাদকের ব্যপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারণ করচ্ছি। গত মাসে ৯টি মাদকের মামলা হয়েছে, মাদক উদ্ধার হয়েছে। আসামী গ্রেফতার না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নিকট অস্ত্র, ১২০ রাউন্ড গুলি থাকে। কিন্তু মাদক ব্যসায়ীগণ খালিহাতে থাকে। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ফেলে পালিয়ে যায়। নদীতে ঝাঁপ দেয়, আমাদের নদীতে ঝাঁপ দেয়া সম্ভাব হয় না। মাদক ফেলে শূন্যরেখা পার হয়ে চলে যায় সেখানে নিয়ম ভেঙ্গে যাওয়া আমাদের সম্ভাব নেই।
আমার দেশের সাংবাদিক, সাইফুল ইসলাম বলেন অভিযোগের ভাষায় বলেন, দুজন মাদক ব্যবসায়ীর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আরোও ২০ জন মাদক ব্যবসায়ীর সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়াধীন। মাদক মামলার আসামী, হত্যা মামলার আসামী, বিএনপি নেতা নজরুল মেম্বার হত্যা মামলার আসামী নয়ন ডাক্তার থানা, ভূমি অফিসে অবাধ বিচরণ করেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাসেল চিটার গ্রফতার হয় না। পুলিশ তথ্য ফাঁস করে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট। পুলিশ ওসিকে মাদকের ব্যপারে সহযৌগিতা করছেন না, এব্যপারে ওসিকে প্রশ্ন করেন তিনি? রাস্তার পাশের অবৈধভাবে জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মান করছেন এ ব্যবপারে কোন পদক্ষেপ নেই। বাস, অটো টারমিলান করার দাবী জানান।
মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট মোঃ হায়দার আলী বলেন, অটো বিকসা মহসড়কে না চললে তারা ভাড়া পাবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এমপি নির্বচান যে কোন নির্বাচনে অটো, ভুটভুটি, টেম্পু প্রয়োজন হয়। যাত্রীবাহী যে সব যাত্রী নেন না সেগুলি বহন করেন। তাদের বিষয়টি দেখতে তাদের রুটিরুজি যেন বন্ধ না হয়। গোদাগাড়ী, বালিয়াঘাটায় যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে অযাথা সময় ক্ষেপন করে, যানজোট সৃষ্টি করে, যাত্রীদের বিরক্তি হতে হয়। পরবর্তীতে সময় কভার করার জন্য দ্রুতগতিতে চলে এদের করনে বেশী দুর্ঘটনা ঘটে এগুলি বন্ধ করা প্রয়োজন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, পুলিশ অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,
জামিন ও মামলায় শাস্তি দেয়ার মালিক আদালত। এখানে পুলিশের কিছু করার নেই। চার্জসীট দুর্বল দেয়ার কোন সুযোগ নেই। স্থানীয় আদালতে জামিন না পেলে হাইকোট থেকে মাদক মামলার আসামীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে জামিন হয়ে যায়। মাদক মামলার আসামী, হত্যা মামলার আসামী, বিএনপি নেতা নজরুল মেম্বার হত্যা মামলার আসামী নয়ন ডাক্তার থানায় , ভূমি অফিসে অবাধ বিচরণের ব্যপারে তিনি বলেন, কেউ যদি কোন মামলায় জামিনে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে কোন কিছু করার সুযোগ নেই। রাজাবাড়ীহাট পুকুরে লাশ উদ্ধার ব্যপারে বলেন, সাবদুল বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িত ছিল, নেশার টাকার জন্য পরিবারের লোকজনকে মারধোর করতো। তার কেউ খোঁজ নিত না। পুকুরে পড়ে সে মারা যেতে পার। ইউডি মামলা হয়েছে। ময়না ময়না তদন্ত রিপোট আসার পর বিষয়টি বুঝা যাবে।
বক্তরা বলেন, গোদাগাড়ীর বড় সমস্যা মাদক, মাদক ব্যাবসায়ী ১ হাজার পরিবার নষ্ট করে নিজে বাড়ী, গাড়ী, কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলবে একদিন তার পরিবার ধ্বংশ হতে বাধ্য। এলাকায় কে কে মাদক ব্যবসা করে তাদের তালিকা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আছে। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কাছে যে তালিকা আছে। স্বল্প সময়ে মাদক ব্যবসা করে কুলিগিরি, শ্রমিক, ঢাকা গাড়ীর হেলপার, সুপারভাইজার, নৈাকার মাঝি, সাইকেল মেকানিক, সিদ্ধডিম বিক্রেতা অর্থাৎ শূন্য থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধ সম্পদের উৎস খোঁজে বেরিয়ে মাদকের ভয়াবহ গল্প। মাদক ব্যবসায়ী ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন কষ্ট না পায় সে দিকে আমদের সুদৃষ্টি দিতে হবে। গোদাগাড়ীতে যাত্রীছাউনি, বাল্যবিয়ে, ইফটিজিং বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
উপজেলার বসুদেবপুর, মাদারপুর, গোপালপুর মিষ্টির দোকানের সামনে হিরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলের কারবার চলে এছাড়া রাজাবাড়ী, প্রেমতলী হাসপাতাল এলাকা, রেলবাজার মনির হোটেল, কসাইপাড়া, মহিশালবাড়ী গরুরহাট, সুলতানগজ্ঞ, ফিরোজচত্তর, সুলতানগজ্ঞ, বাসুদেবপুর, পিরিজপুর, কুমুরপুর, মাদারপুর, শিবসাগর প্রভূতি এলাকায় অবাদে হোরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্নধরের মাদকসেবন, বেচাবিক্রিসহ ছোটবড় অপরাধ হয়। ওই স্থানে অভিযান ও মোবাইল কোর্টসহ মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।