
কে এম সোহেব জুয়েল ঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চলতি জুলাই মাসজুড়ে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘটিত এসব ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান মালামাল এমনকি গুরুত্বপূর্ণ জমিজমার দলিল পর্যন্ত চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, বর্ষাকালে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা বাড়লেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে বাবুগঞ্জ কলেজ গেট এলাকার খান স্টোর নামের একটি মুদি দোকানে টিনের চালা কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। তারা ক্যাশ ভেঙে নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। দোকানের মালিক মোশারফ হোসেন খান বলেন, বাবুগঞ্জ থানার মাত্র কয়েকশ’ গজের মধ্যে এমন ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে আছি।
এর আগে গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত তিনটার দিকে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া নতুন চর এলাকায় সুমন হাওলাদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে। ২৪ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের মনির তামিদার, কবির তামিদার, কালাম হাওলাদার ও রুবেল মল্লিকের বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
চলতি মাসেই কেদারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি থেকে পুরোনো ও মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী চুরি হয়েছে। ওইসময় বাড়ির কোনো সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। গত ২৩ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক সাবেক সচিবের বাড়ির সামনের সাইক্লোন সেন্টারের পানির ট্যাংকের লোহার ঢাকনা চুরি হয়।
১৭ জুলাই দিবাগত রাতে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়সাল মুন্সির বাড়িতে সিঁধ কেটে দুর্বৃত্তরা নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে। এরও আগে ৯ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদারের ভাই এবং বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চোরেরা নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল এবং জমির দলিলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে রাতের নির্জনতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে মিল থাকলেও সব অপরাধ একই চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
অপরদিকে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, অনেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে বিরাজমান আতঙ্ক আরও বাড়বে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাবুগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, সম্প্রতি বর্ষাকাল হওয়ার কারণে কিছু এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। সারাদেশেই বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। আগের চেয়ে পুলিশের তৎপরতা ও রাতের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান বলেন, বাবুগঞ্জে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। চুরি-ডাকাতির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।