
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা )।।
খুলনার অবহেলিত এক জনপদ পাইকগাছার চাঁদখালীর কাটাবুনিয়া মধ্যরচক । বিগত ৫০ বছরে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি অত্র এলাকায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষি ও মৎস্যের অপার সম্ভাবনা কে কাজে লাগাতে পারছে না এখানকার কৃষক পরিবার গুলো। চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এখনো পাকা করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় কাঁচা, সরু এবং নীচু মাটির রাস্তা। বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা এখানকার মানুষের। এখানকার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তা ভুলে যান এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ সকল আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এখানকার প্রতিটি মানুষ। সমস্যা, সংকট আর দুর্ভোগ এখানকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। এগুলোর সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে খাল বিলের মধ্যে কোন রকমে নিম্ন মানের জীবন যাপন করছে কাটাবুনিয়ার শত শত পরিবার।
দেখে বোঝার উপায় নেই আধুনিক এই যুগে মানুষের বসবাসের এটা কোন এলাকা হতে পারে । নেই সরকারি তেমন কোন প্রতিষ্ঠান। না আছে যাতায়াতের ভালো কোন ব্যবস্থা। এখনো মাটির কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে কোন রকমে চলাচল করা গেলেও কোন যানবাহন চলতে পারে না। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে এখানকার মানুষ। পাইকগাছা কয়রা সড়কের গজালিয়া বানলা থেকে চাঁদখালী গজালিয়া সড়কের কলমিবুনিয়া পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি কাটাবুনিয়া মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। যার ৩ কিলোমিটার এখনো মাটির কাঁচা রাস্তা। রাস্তাটি সরু এবং নীচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। তখন রাস্তার উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলতে হয় কাটাবুনিয়া এলাকার মানুষের। তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা। স্কুল ছাত্র ওবায়দুল্লাহ বলেন বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো আর কাদামাটির রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যহত হয় বলে জানান বেলাল হোসেন মোড়ল। সুপেয় পানির ও রয়েছে তীব্র সকট।কোলে শিশু সন্তান আর কলস নিয়ে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয় বলে জানান গৃহবধূ মমতা। বয়োবৃদ্ধ শহর আলী মোড়ল বলেন নানা সমস্যা আর সংকটের সাথে সংগ্রাম করেই আমরা বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে মনে আমরা নির্জন কোন দ্বীপে বসবাস করছি। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু এলাকার কোন উন্নয়ন হয় না, বিগত ৫০ বছর ধরে আমরা অবহেলিত এবং উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছি। নির্বাচন আসলে ভোটের প্রয়োজনে অনেকেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সবকিছু ভুলে যায়। কেউ এলাকায় যেমন আসে না, তেমনি এখানকার মানুষের কেউ খোঁজ রাখে না। সাবেক ইউপি সদস্য আক্কাস আলী ঢালী বলেন দেশের এমন কোন জায়গা নাই যেখানে উন্নয়ন হয়নি, অথচ স্বাধীনতার পর থেকে চাঁদখালীর কাটাবুনিয়া এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। এখানকার যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার উন্নয়ন জরুরি। বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তায় মাটির কাজ না প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও তলিয়ে যাবে যাতায়াতের রাস্তা। পারাপারের জন্য কয়েকটি কার্ল ভার্ট প্রয়োজন।জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানকার সমস্যা এবং সম্ভাবনা যাচাই এবং নিরূপণ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাস্তাটি যাতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এখানকার মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
প্রেরক,
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা