সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
জয়পুরহাটে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে প্রা/ণনাশের হু/মকি, জিডি ‎বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)-এর সুনামগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন উল্লাপাড়ায় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধকে কুপি/য়ে হ/ত্যা স্ত্রী হাসপাতালে ক্ষেতলালে শালিশের মা/রামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী প্রকাশিত সংবাদ ভি/ত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিক মতিউরের ওপর হা/মলার প্র-তিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষো/ভ সমাবেশ অবশেষে নতুন চালু হলো ঐতিহ্যবাহী মহিশালবাড়ী গবাদি পশুর হাট পাইকগাছায় পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন র‌্যাব-১২ এর অ/ভিযানে ১ কেজি হে/রোইনসহ ১ জন মা/দক সরবরাহকারী গ্রে/ফতার ‎সারা বাংলাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ইং উদযাপন শুরু

ক্ষেতলালে শালিশের মা/রামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১০ Time View

মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হন্তনাবাদ গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ এখন পাল্টাপাল্টি মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন বির্তকের জন্ম দিয়েছে। মারামারির মামলার পর এবার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক।
জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারী উপজেলার হন্তনাবাদ গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহে প্রতিবেশী আজিজুল হকের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য গ্রাম্য শালিশ বসান আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজিউল হক শাবলু।
অভিযোগ রয়েছে, শালিশ শেষে মোজাম্মেল হকের ভগ্নিপতি উসকানিমূলক মন্তব্য করলে আজিজুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোজাম্মেলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে সুস্থ হয়ে গত ২৪ জানুয়ারি জয়পুরহাট আমলী আদালত-৪ এ মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় হন্তনাবাদ গ্রামের জুয়েল শেখ (২০), মোকারম শেখ (৫০), রাব্বি হাসান শেখ (২০), সিদ্দিক শেখ (৬০), আইজুল শেখ (৪০), রহিম শেখ (৩৮), সায়না ও আলমকে।
এরপর গত ২৭ জানুয়ারি আজিজুল হকের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে।
মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা সেই মোতাবেক গত ১০ মার্চ তিনি বিবাদীকে নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠালেও তার জবানবন্দি গ্রহণ না করে সময় নেওয়ার পিটিশন দিতে বলে। কোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতেও কাল ক্ষেপন করে ওই কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে না গিয়ে পরে ২৭ এপ্রিল বাদীপক্ষকে অফিসে ডেকে একতরফা লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে গত রবিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা হন্তনাবাদ গ্রামে গিয়ে প্রতিবেশী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, দুই নারীর ঝগড়া ও পরবর্তীতে শালিশের ঘটনায় মারামারির বিষয়টি জানা থাকলেও শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা তারা শোনেননি।
আলেয়া খাতুনের প্রতিবেশী শাকিলা, দেলোয়ার হোসেন ও রেজাউল কাজী বলেন, আমাদের বাড়ি পাশাপাশি। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই জানতে পারতাম। আমাদের জানামতে এমন কিছু ঘটেনি। তবে মারামারির মামলার জের ধরে হয়তো এ মামলা হয়েছে।
আজিজুল হক বলেন, শালিশ শেষে মারামারির ঘটনা ঘটে কিন্তু তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়নি। মোজাম্মেল দৌড়ে পালানোর সময় পরিত্যক্ত টিউবওয়েলের সাথে ধাক্কা লেগে আহত হয়েছে।
এঘটনায় আলেয়া খাতুন বলেন, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। আমি একাধিকবার নিষেধও করেছি। তার স্ত্রী আমাকে নিয়ে সন্দেহ করত। আমার সামনে এসে বিভিন্ন গালিগালাজ করত। আমি সহ্য করেছি। মারামারি ঘটনার দুই দিন আগে মোজাম্মেলের স্ত্রী আমার বাড়ির উঠানে এসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। গ্রামের লোকজন জরো হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। যে কারণে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়। শালিশে আমি সঠিক বিচার না পেয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজিউল হক শাবলু বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সমাধান সম্ভব হয়নি। এখন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মামলা তদন্তে সব সময় বিবাদীর জবানবন্দি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin