
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ |
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নে হঠাৎ করে ‘পীর’ বনে যাওয়া মিঠুন সরকারকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকারের জ্যৈষ্ঠ ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেও সাধারণ জীবনযাপন করা মিঠুন সরকার হঠাৎ করেই নিজেকে ‘কাদেরিয়া তরিকার’ অনুসারী দাবি করে পীর হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন লোকজনকে বায়াত পড়ানো, উপঢৌকন গ্রহণ এবং অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজের অনুসারী তৈরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও নিয়মিতভাবে গরু, খাসি জবাই করে সিন্নি রান্না করে অনুসারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তার ভক্তরা মুরগি, গরু, খাসি ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তার কাছে আসছে বলেও জানা গেছে। নারী-পুরুষ উভয়ই তার কাছে যাচ্ছেন, যা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে গ্রামের মুসল্লিগণ এবং প্রায় ৭০ জন আলেম তার কর্মকাণ্ডকে ‘বেদআত’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা জানান, ধর্মীয় বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মিঠুন সরকার একটি সূরাও শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে পারেননি, যা তার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, মিঠুন সরকার পূর্বে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং দীর্ঘদিন চাকরির সাথে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ গ্রামে ফিরে এসে এভাবে পীর সেজে বসা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া কিছু গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর একাংশ দাবি করেছেন, তিনি নারীদের সাথে অশোভন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও জানা গেছে, তিনি বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, ঋণ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই ‘পীর’ পরিচয় গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য
উদঘাটন করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার না হয়।