
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সন্মেলন কক্ষে ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান এর সভাপতিত্বে অক্টোবর মাসের মাসিক আইন শৃঙ্খলার সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায়প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যপক মোঃ মুজিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মোঃ সাইদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম, জামায়ত নেতা ও শিক্ষক নেতা ড. ওবাইদুল্লাহ, রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবাদুল খালেক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোঃ আতিকুর রহমান,মাটিকাটা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ তোজাম্মেল হক প্রমূখ।
রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যপক মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, মাদক
গোদাগাড়ী – তানোরে থাকবে না, তথা বাংলাদেশে থাকবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের কোন দল নেই। সিদ্ধান্ত হয়, বাস্তবায়ন হয়, অবৈধ দখলমুক্তকরা হয়। কিন্তু আবার অবৈধভাবে দখল করা হয়ে যায়। যে ব্যক্তি দখল করবে সে দলেরই হউক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশসনের অনেকে দুর্নীতিবাজ, দলীয় লোক হউক দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তা না হলে এ সব আইনশৃঙ্খলা সভা করে কোন লাভ নেই। তিনি আরও বলেন, সরকারী দলের নেতা কর্মী সন্ত্রাস, অবৈধ দখল করেন, কোনা কোন বিরোধী দলের নেতা কর্মীরাও এটার সাথে জড়িত। বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মোঃ উজ্জ্বল বলেন, কোন সরকারীদের নেতা কর্মীরা জড়িত নয়। এমপির বক্তব্য প্রত্যাহার দাবী জানান। এর উত্তরে এমপি বলেন, তাহলে চাঁন্দাবাজী করে কে?
ছেলে মেয়েদের শতভাগ শিক্ষিত করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাইদুর রহমান বলেন, মাদক ব্যাবসায়ী, মাদক সম্রাটগণ গোদাগাড়ীর বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি লেনদেন করে। একজন মাদক সম্রাটের নামে ১৪ /২০ টি একাউন্ট রয়েছে। তার কোন বৈধ ব্যবসা নেই। তার এত টাকা পায় কোথায়? এ ব্যপারে পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগে কি তথ্য নেই। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ সুজন মিয়া বলেন, মাদক সম্রাটদের কোটি কোটি টাকা লেনদেন করে, ১৫/২০ টা ব্যাংক একাউন্ট থাকে, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার সুযোগ নেই। পুলিশের স্বল্পতার কারনে আমরা সব সময় অভিযান করা যায় না। এ্যাড. মোঃ উজ্জলের প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, মাদারপুর, ডিমভাঙ্গা, মহিশালবাড়ী, গোদাগাড়ী, হাটপাড়া, হেলিপ্যাড, রেলগেটে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। ইউএনও ইসরাত জাহান প্রশ্ন করেন, আমার স্বাক্ষর জাল করেছে এব্যারে ১ মামলা ও আমাদের ৬ টি অফিসের মেইনগেটে তালা দেয়ার ও মবসৃস্টি করার মামলার বিষয়ে ব্যপারে জানতে চাই। এব্যপারে ওসি বলেন, একজন আগামী গ্রেফতার আছে, বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কত বছর লাগবে? ইউএনও এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। ইউএনও এমপিও মুজিবুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, আপনার দলের লোকজন আমার ৬/৭ টি অফিসে তালা দিয়েছেন বিশেষ করে মাহাফুজের নাম উল্লেখসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দলীয় কি ব্যবস্থা, কি বিচার করেছেন তা সাহসীকতার সাথে জানতে চান? আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে তা আইনশৃঙ্খলা সভায় জানতে চান ইউএনও ইসরাত জাহান। এর জন্য এমপি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বক্তাগণ বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, দখলবাজ, সন্ত্রাস যে দলের হউক কোনভাবে ছাড় পাবে না। মাদকের ব্যপারে জিরো টলারেন্স। অনেক সময় পুলিশ অপারেন্সে যাওয়ার পূর্বে মাদক ব্যবসায়ী, অপরাধীর জেনে যায়। এর কারণ বেড়ায় ক্ষেত খায়। এ যেন পুলিশকে অগ্রণী পালন করতে। যে সব পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা রেয়েছে, ঘুষ লেনদেন করে তাদেরকে এ থানা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। মাদক, চাঁন্দাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দখলবাজির ব্যপারে আলোচনা করা হয়। ক্লাসের সময়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং, প্রাইভেটে যুক্ত থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে না, কোচিং, প্রাইভেটের সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারী নির্দেশনামতে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চাঁন্দাবাজ, দুর্নীতির সাথে জড়িত কারা তারা জানেন, তারা ইচ্ছা করলে এগুলি অনেক অংশ বন্ধ হয়ে যায়। মাদক ভারত আসে, বিজিপি সংখ্যা কম সীমান্ত দিয়ে যেন আসতে না পারে সে ব্যবস্থা সঠিকভাবে নিতে হবে।
১৮ অফিসার ও ৬২ জন পুলিশ থাকাসহ মাদক বন্ধ হয় না কেন? পুলিশ ঘুষ খায়, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে শখ্যতা করেন। এগুলি ছাড়তে হবে। অন লাইন জুয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। গোদাগাড়ীর বড় সমস্যা মাদক, একজন মাদক ব্যাবসায়ী ১ হাজার পরিবার নষ্ট করে নিজে বাড়ী, গাড়ী কিনে ।
বক্তাগণ গুরুত্বপূর্ন মতামত প্রদান করেন মাদক, সন্ত্রাস বিরোধী, চাঁদাবাজী, ঘুষ কার্যক্রম মাথা চাড়া দিতে না পারে এজন্য প্রশাসন, বিজিবি পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির বাইরের৮/৯ সদস্য মিটিং উপস্থিতি থাকায় ইউএনও ইসরাত জাহান একাধিকবার আলোচনা করেও কোন সুরহা হয় না। বিষয়টির ব্যপারে আগামী সভার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে উপস্থিত সদস্যগণ দাবী জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ আইন শৃঙ্খলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান কয়েকজন চেয়ারম্যান ছাড়া অনেকে অনুউপস্থিত থাকেন এটা কাম্য নয়।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।