বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
শার্শায় একই পরিবারের ৪ জনকে কু-পিয়ে জ-খম, বাড়িঘর ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লু-ট পল্টন হ-ত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে চারঘাটে জামায়াতের বিক্ষো-ভ মিছিল ও সমাবেশ কুমিল্লায় জামায়াতের বিক্ষো-ভ মিছিল, ২৮ অক্টোবরের হ-ত্যাকাণ্ডের বি-চারের দাবি বানারীপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মিন্টু গ্রেপ্তার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান এর ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উল্লাপাড়ায় মাসব্যাপী চলছে জমজমাট বাণিজ্য মেলা চারঘাটে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীদের চাকুরীর বয়সসীমা ৬৫ বছর করা সময়ের দাবী মোহনপুরে অ-বৈধভাবে সার বিক্রির অ-পরাধে ব্যবসায়ীর জ-রিমানা

‎নিম্নমানের চাল ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ‎বক্তব্য নিতে “আনতে হবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার লিখিত অনু-মতি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৩ Time View

‎
‎

‎খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
‎হামরা গরিব মানুষ। সরকার ১৫ টাকা কেজি দরে চাউল দেয়, যাতে হামরা খাবার পারি। এবার যে চাউল দিছে, তাও সাত মিশালি। সকালে ভাত রান্না করলে বিকালে আর থাকে না। পুষ্টি চাউলের কথা কয়া অপুষ্টি চাল হামাক ডিলারেরা দিছে।’
‎
‎আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আনছার আলী। তাঁর অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এবার যে চাল দেওয়া হয়েছে, তার মান আগের চালের তুলনায় খারাপ। শুধু আনছার আলী নন, তাদের মতো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একাধিক সুবিধাভোগীও চালের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন।
‎
‎উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চকতাহিরা গ্রামের বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ‘আগের দিনের চালগুলো ভালোই ছিল, হাইব্রীড হলেও ভাত খাওয়া যেত। তবে এবার যে চাল দিছে তার মান খুবই খারাপ। লাল চাউল ভাতে একটা বাজে গন্ধ আসে, ভাত খাওয়া যায় না। রান্নার কিছুক্ষণ পরে নষ্ট হয়ে যায়। হামরা গরিব মানুষ, শুনছি সরকার হামাক ভর্তুকি দিয়া কম দামে ভালো চাউল দেয়। এবার ফির উল্টা লাল পুরাতন চাউল দিছে ডিলারেরা।
‎
‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার অন্তত ৭ টি ডিলারের বিতরণকেন্দ্রে নিম্নমানের চাল বিতরণ এবং ছেঁড়া-ফাটা বস্তা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিন্মমানের চাল সরবরাহ করে দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাগণ। অন্যদিকে চাল বিতরণ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় তারাগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নে ২১ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০ হাজার ২২৬ জন সুবিধাভোগীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। প্রতি কেজি চালের দর ১৫ টাকা। চাল বিতরণের সাপ্তাহিক সময় বার, ব্যানার টাঙানো, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা, চালের গুণগত মান পরীক্ষা এবং বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন (ট্যাগ) কর্মকর্তারা।
‎
‎তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে নিয়মিত তদারকির ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। জানতে চাইলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সায়েম হাসান বলেন, ‘এক বছর আগে একবার খাদ্য অফিস থেকে চিঠি পেয়েছি। এরপর আর তেমন খোঁজখবর নেই। মাঝেমধ্যে চালের ডিলাররা বিতরণের জন্য জানায়।’
‎
‎
‎তারাগঞ্জ বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন আপান বলেন, ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল বিতরণে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। সমাজে নিম্নবৃত্তের লোক এই সুবিধার আওতায়। সেখানে এই অনিয়মের কারনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
‎ সরকার বিগত দিনে ১ কেজি চাল ৪৯ টাকায় ক্রয় করেছে। সেখানে তামড়ী, খুদ, অপুষ্ট চাল থাকবে কেন? খাদ্য গোডাউনের কর্মকর্তার অনিয়মের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল সরবরাহ করেছে বলে মনে করছি। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।’
‎
‎এ বিষয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুস সামাদ মুঠোফোনে জানান, সরকারি গুদাম থেকে যেভাবে চাল সরবরাহ করা হয়, তারা সেভাবেই কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করেন। চালের গুণগত মান নির্ধারণে তাদের কোনো হাত নেই।
‎
‎নিম্নমানের চাল বিতরণ ও ছেঁড়া-ফাটা বস্তা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) জাহাঙ্গীর আলম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন । তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে হলে জেলা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে দিতে হবে। এছাড়া আমার কোনো বক্তব্য দিতে নিষেধ আছে।’
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এ বিষয় নিয়ে তর্ক করতে চাই না। আমার অফিসের সব তথ্য উপজেলা অফিস থেকে নিতে পারবেন। আমি এখানে কী করি, উনি (উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা) সব জানেন।’
‎
‎চাল বিতরণে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং চালের মান নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আফরোজা বেগমও কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে এলে বক্তব্য দিতে পারবো।
‎
‎তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ছালেহ আজিজ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের সংগ্রহের বাইরে থেকেও কিছু চাল আসে। নিম্নমানের চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিতরণ ও আর্থিক লেনদেনসহ সকল অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‎

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin