
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা খাতুন(৫৫)নামে এক বিধবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত বিধবার পিতৃকূল ও শ্বশুড়কূলের মধ্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন রাশিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা
আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া বাড়ি চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।এতে শ্বশুড় কূলের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তাঁদের পরিবারের অবস্থান তুলে ধরেন।সাংবাদিক সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে শ্বশুড় কূলের রাশিদুল ইসলাম বলেন,গত বৃহস্পতিবার(২২অক্টোবর)নিহত বিধবা রোজিনা খাতুনের বড় ভাই মো.দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর স্বজনেরা তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা,কল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন। উল্লেখিত সাংবাদিক সম্মেলনের আনিত অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে তিনি তাঁদের পরিবারের অবস্থান তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম জানান, তাঁর চাচি রোজিনা খাতুনের স্বামী রফিকুল ইসলাম গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর রোজিনা খাতুন একাকী জীবনযাপন করছিলেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত শনিবার(১৭ অক্টোবর)দিবাগত রাতের যে কোন সময়ে রোজিনা খাতুন(৫৫)তাঁর শয়ন ঘরের তীরের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।এ ঘটনার পর পরই পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর (রোজিনার)মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
শ্বশুড় কূলের রাশিদুল ইসলামের লিখিত বক্তব্যে সঙ্গে নিহত বিধবা রোজিনার মাতৃকূলের দেলোয়ার হোসেন, হেলাল হোসেন ও সোহেল রানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া এলাকায় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
রাশিদুল ইসলামের অভিযোগ, রোজিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে তাঁরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
রাশিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা জানান, তাঁরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চান। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় চান না।বরং ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানান তাঁরা।