
স্টাফ রিপোর্টার :শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেলেও অশান্তিতে আছে গ্রামীণ ব্যাংকের সহকর্মীরা। সাম্প্রতিক পে স্কেল দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতনের মাএা দিন দিন বেড়ে চলেছে । পরিবারের কথা চিন্তা করে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না ।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে গ্রামীণ ব্যাংকের অনেক সহকর্মীরা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের অনেক সদস্য ঋণ নিয়ে কিস্তি দেয় না, অনেক সদস্য ঢাকায় চলে যায়, কিস্তি দেয় না । সে সব সদস্যর কিস্তি কর্মীদের পকেট থেকে চালাতে হয় , যোনাল ম্যানেজারের নির্দেশে এরিয়া ম্যানেজাররা কেউ কিস্তি ড্রপ দেখাতে দেয় না । কিস্তি চালাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে । আবার অনেক কর্মী কিস্তির টেনশনে স্টোক করে মৃত্যু বরণ করছেন । শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা থাকলেও ছুটির দিনেও কর্মীদের দিয়ে কাজ করে নেওয়া হয় ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় অভ্যন্তরীণ অডিট চলাকালে কীটনাশকযুক্ত ট্যাবলেট সেবন করে মো. আব্দুস সালাম (৫০) নামে এক শাখা ব্যবস্থাপকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে অবরুদ্ধ অডিট কমিটির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুস সালামকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মো. আব্দুস সালাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সহকর্মীরা জানান, নিমগাছী শাখায় গত কয়েক দিন ধরে অভ্যন্তরীণ অডিট কার্যক্রম চলছিল। এ সময় আব্দুস সালামকে বেশ মানসিক চাপে ও হতাশাগ্রস্ত দেখা যায়।
গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে বেশ হতাশাগ্রস্ত দেখাচ্ছিল। তার মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না, আমি মারা যাবো।’ পরে তিনি বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আব্দুস সালামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অডিট দলের তিন সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অডিট কমিটির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অডিট টিমের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।