বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড ‎আহ/তদের হাসপাতালে দেখতে এসে পুলিশের হাতে আ/টক ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা রাজন ভু-য়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধ/র্ষণের চেষ্টা বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত

গোদাগাড়ীতে আঙুর চাষে সাব্বিরের বাজিমাত। কৃষি কর্মকর্তাগণের মতে গোদাগাড়ী আঙ্গুর চাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ Time View

গোদাগাড়ী ( রাজশাহী ) থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ আঙুর চাষে প্রথম বছরেই বাজিমাত করেছেন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আঙ্গুর চাষী মোঃ সাব্বির রহমানের।
সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাঁগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন গোদাগাড়ীর এক কৃষিপ্রেমী ছাত্র।
শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্প। গোদাগাড়ী উপজেলা অফিসের পরামার্শে ও কৃষি ইউটিউব দেখে শেখা সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বাঁগানে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী মহল্লার ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। পটল, ড্রাগন, আপেল কুল কিংবা ভারত কুল চাষে আগেই সফলতা পেয়েছেন তিনি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর নিয়ে।

মাত্র ৯ মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় ২ শতক পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লাগান কয়েকটি আঙুরের চারা। ইউটিউব থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় মিলেছে সফলতা।

সাব্বিরের বাগানে এখন দোল খাচ্ছে ৪ জাতের আঙুর। বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাঁগান। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। প্রথমদিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকুনুর জাতের চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। পরিচর্যার পর একটি গাছ থেকেই পান ৭ থেকে ৮ কেজি আঙুর। সেই সাফল্যই বদলে দেয় তার ভাবনা। পরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন এই শিক্ষক।

সাব্বির বলেন, শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার ৫ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি। তিনি এবার ২ বিঘা জমিতে নতুন করে আঙ্গর চাষ করেছেন। লাগানো গাছগুলি বেশ বড় হয়েছে। টালে গাছ উঠেছে, বেশ বড় হয়েছে। আগামী বাম্পার ফলন আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আঙুর গাছ ছাঁটাই করলে মার্চ-এপ্রিলে ফল পাওয়া যায়। আবার শীতের সময়ে ফলন আসে। বেকারত্ব দূর করতে এখান থেকে চারা নিয়ে অনেকেই চাষ শুরু করেছেন। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন। অনেকে সরাসরি দেখে যাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে সহায়তা করলে আরও বড় পরিসরে আঙুরের আবাদ করতে পারবো।’

তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষজন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন, কিনছেন চারাগাছও। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ হলে একসময় গোদাগাড়ী ও রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বাঁগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, শামীম রেজা বলেন ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর ফলতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরাও চারা নিয়ে বাড়িতে লাগানোর চিন্তা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, গত বছরও গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ‘বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক ’ জাতের আঙুরের ফলন ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের মাটিতেও যে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন গোদাগাড়ীর গ্রামের সাব্বির। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

গোদাগাড়ী কৃষি অফিসের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওবাইদুল হক বলেন, সাব্বির খুব পরিশ্রমী ও সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। তার বাঁগানের আঙ্গুরের থোকা গুলি দেখে মনে হয় কোন বিদেশী বাগানে আছি। আসলে , ‘আঙুর দোআঁশযুক্ত লালমাটি, জৈবিক সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে ভালো হয়। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে। যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না। প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এমন জায়গা আঙুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। গোদাগাড়ী মাটিতে আঙুরের ফলন বেশ ভালো হচ্ছে । এই ধরনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হলে নতুন নতুন উদ্যােক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

আমাদের দেশে গ্রামে শহরের ছাদে আঙুর চাষ করলে বর্ষাকালে আঙুর গাছকে ভালোভাবে টিকিয়ে রাখা যায় কারণ ছাদের টবের মাটি দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেতে থাকে না, আঙুর গাছের শিকড় সবসময় অক্সিজেন পায়। শীতের শেষে গাছকে প্রুনিং করে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে গাছে মুকুল আসলে বর্ষার পূর্বেই অনেক জাতের আঙুর পরিপক্ব হয়। অতএব, আঙুরের যে জাতগুলো কম সময়ে পরিপক্ব হয়, সেই জাতকে ছাদে সহজেই চাষ করা সম্ভব। আগাম বা কম সময়ে পরিপক্ব হয় এমন জাতের মধ্যে বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ডিক্সন, গ্রিন লং, লোরাস, নাডু সিডলেস। ইত্যাদি জাত কম সময়ে পরিপক্ব হয়।
আমাদের দেশে যেহেতু বর্ষাকাল আছে, তাই ছাদে আঙুর চাষ যত সহজে সম্ভব মাটিতে তা সম্ভব নয়। ছাদের পরিবেশ ভিন্ন সেখানে আর্দ্রতা কম, সূর্যালোক বেশি এবং ছাদের মেঝে প্রায় বেশির ভাগ সময়ই শুষ্ক থাকে। ইচ্ছে করলে ছাদের টবের মধ্যে যেনো বৃষ্টির পানি না যায়, সে ব্যবস্থাও করা সম্ভব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছাদের উচ্চতা মাটি থেকে অনেক বেশি হওয়ায় আঙুরের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়। এ ছাড়াও একটি আঙুরের গাছের ক্যানোপি অন্যান্য ফল গাছের তুলনায় কম বলে বড় সাইজের টবে, ড্রামে বা জিও ব্যাগে আঙুর গাছের জন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত মাটি পানি ও পুষ্টির নিশ্চিত ব্যবস্থা করা সম্ভব।

“বসতভিটায় সাব্বিরের চমক: গোদাগাড়ী পৌর এলাকার আলীপুরের কৃষক সাব্বির হোসেন তাঁর বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা মাত্র ২ কাঠা ফাঁকা জমিতে আঙ্গুর চাষ করে বাজিমাত করেছেন। সাব্বির হোসেন জানান, তাঁর বাগানের উৎপাদিত আঙ্গুর বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই অভাবনীয় লাভ দেখে তিনি ইতিমধ্যেই আগামী মৌসুমের জন্য আরও তিন বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের উদ্দেশ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন করেছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান বলেন, দেশে যদি এই মিষ্টি আঙুরের আবাদ বাড়ানো যায়, তবে বিদেশ থেকে আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। দেশের জাতীয় অর্থে একটি ভূমিকা রাখতে পারে।

মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী,
রাজশাহী

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin