
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশী মূল্যে সার বিক্রির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এটা কি সংকট না বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। একটি কুচক্রীমহল সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের নিকট বেশী মূল্যে বিক্রি করে কৃষকদের সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার অপচেষ্টা করা অভিযোগ তুলছেন অনেক। এদিকে কৃষকদের দাবী সার ডিলারগন বলছেন নেই কিন্তু বেশী দাম দিলে মিলছে বস্তার বস্তার সার। এদিকে অনুমোদনহীন সার অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ দিনে ১২৪৪ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করেছেন এবং ২ জন ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন প্রশাসন। ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দুধাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ১০৫১ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এসময় পলাতক থাকা এক ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে উদ্ধারকৃত সার কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়। মোহনপুর ইউনিয়নের দুধাই গ্রামের মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্স এর গোডাউনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন আনুমানিক ৫৫০ বস্তা সার ডিএপি, এমওপি ও টিএসপিসহ এ অভিযানে মোট ১০৫১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী পলাতক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এই সারগুলো কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে বিক্রয়ের জন্য অত্র ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স খাইরুল ট্রেডার্স-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।
একই দিনই গোদাগাড়ী উপজেলার কানাইডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ১৩২ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাসিরুদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অর্থদণ্ডসহ এ ঘটনায় মোট আর্থিক সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এছাড়া গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের পালপুরে অবস্থিত ‘মেসার্স রহিম এন্টারপ্রাইজ’ এর গোডাউন পরিদর্শনকালে ২২ বস্তা অনুমোদনহীন এমওপি সার পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি জব্দকৃত ২২ বস্তা সার সরকারি মূল্যে বিক্রয় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। একই দিনে দেওপাড়া ইউনিয়নের কদমশহরে কীটনাশকের দোকান ‘মেসার্স সাজ এগ্রো বিজনেস’-এ অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ৩৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অনিয়মের দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকেও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত সার সরকারি দামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, গতকাল মোহনপুর ইউনিয়নে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ১০৫১ বস্তা এবং বিকালে রাজাবাড়ীতে ১৩২ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সার কৃষকদের মাঝে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রিকরে অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা করা হবে। এসব সার কীটনাশক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে উদ্ধার করা হয়েছে। এরা কোন ডিলার নয়। এ সারগুলি নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পাচার করার জন্য অবৈধভাবে রাখা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ওই দিনই সার সম্পর্কিত একটি জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সারের কৃত্রিম সংকট রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
কৃষক আঃ মাতিন ও আতিকুর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ডিলারগন বলেন, সার নেই কিন্তু বেশী মূল্য দিলে ফজর নামাজের পূর্বে তেলে মত মিলছে সার। অন্য স্থান থেকে এনে দিচ্ছেন সার। কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যেতে পারে।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, সার সিন্ডিকেট, মজুরদার, বেশী মূল্যে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কৃষকগণ যেন মোমো ছাড়া সার ও কীটনাশক ক্রয় না করেন এব্যপারে পরামার্শ দেয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।।