
হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় এক পোশাক শ্রমিক নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, মা ও ছেলেকে বিষপান করে থাকতে পারেন। তবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) ও উত্তর গাজীরচট বুড়িরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মোছা. সাথী খাতুন (৩১) ও তাঁর ছেলে মো. শেখ সাদিক (১০)। সাদিক স্থানীয় হাজী সৈয়দ খান স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাথী আশুলিয়ার ইপিজেড এলাকার শান্তা এ্যাপারেলসের কর্মী ছিলেন। তাঁর স্বামী মো. ইব্রাহীম (৩৫) অটোরিকশা চালান। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে।
নিহতের স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। সকাল ৯টার দিকে ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে জানতে পারেন, সাদিক স্কুলে যায়নি।
পরে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, তাঁদের ভাড়া করা কক্ষটি তালাবদ্ধ। আশপাশে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাদিককে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তখন তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করছিলেন।
এ সময় ইব্রাহীম জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী সাথী খাতুনও কারখানায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে তিনি ছেলেকে জামগড়া সরকার মার্কেট এলাকার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে সাদিককে মৃত ঘোষণা করেন।
শান্তা এ্যাপারেলসের কর্মী শ্রী সুধাংশু পাল বলেন, সকালে কারখানায় এসে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। আমরা তাঁকে কারখানার মেডিকেলে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখন শুনেছিলাম, তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেছেন। পরে শুনছি, তিনি বিষপান করেছিলেন।
নিহত সাথীর বড় বোন রূপালী বলেন,আমার বোন খুব চাপা স্বভাবের ছিল। কখনো আমাদের কাছে কিছু বলত না। কেন এমন হলো, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।
মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। কারখানায় যাওয়ার পর সাথী অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে সাদিককে বাসায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের অসুস্থতার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, কিংবা তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষপানের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।