
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি,
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহিনা খাতুনের বিরুদ্ধে ভুল ও মিথ্যা প্রতিবদন দাখিলের অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইচাইল গ্রামের মৃত রায়েজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আকবর হোসেন (৫৯) বাদী হয়ে গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে একই গ্রামের বাসিন্দা ও প্রতিবেশী মৃত ইউনূস আলীর দুই ছেলে ওসমান গণি (৪৫) ও আবু হানিফ (৪২) এবং এক চাচাতো ভাই জোয়াদ আলী (৬০) এর বিরুদ্ধে বাইচাইল মৌজায় সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বি. আর এস. জে. এল নং ৩০ খতিয়ান খতিয়ান নং ৪৯, ১৫৭৮ নং দাগে ১০শতাংশের কাতে ৫ শতাংশ ভূমিতে ফলদ গাছপালা স্থাপন করে, বে-আইনিভাবে ভোগ করার অভিযোগে ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারার বিধান মতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত সরোজমিনে তদন্ত করে ভূমির প্রকৃত দখলদারের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘাটাইল পৌর ও সদর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কমকর্তা (নায়েব) কে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সরোজমিনে গিয়ে তদন্ত করে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রতিবেদন প্রদান করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় উক্ত ৫শতাংশ ভূমিতে আড়াই বছর যাবত দখলে রয়েছেন মামলার বাদী পক্ষ।
ভুক্তভোগী মো. আবু হানিফ বলেন ১৫৭৮ নং দাগের ২৭ শতাংশের এই ভূমিতে বিগত প্রায় ১০০ বছর ধরে আমরা ভোগ দখলে রয়েছি যাহার সকল প্রকার দলিল পত্র আমাদের কাছে রয়েছে। অথচ প্রতিবেশী আকবর হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নায়েবের মনগড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আড়াই বছর ধরে উল্টো বাদীর দখলে রয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের হয়রানিতে ফেলা হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে একটি সঠিক ও নির্ভুল যোগ্য সমাধান চাই।
স্থানীয়রা জানান বিগত প্রায় ৭৫ বছর ধরে ২৭ শতাংশ ভূমিতে ভোগ দখল করে আসছেন মৃত ইউনূস আলী এবং বর্তমানে একই জায়গায় বহাল রয়েছেন তার ছেলে ওসমান গণি (৪৫) ও মোঃ আবু হানিফ(৪২) যাহার বি. আর এস. জে. এল নং ৩০,খতিয়ান নং ৪৯ ও দাগ নং ১৫৭৮।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম মিয়া বলেন এলাকাবাসীর কোন তথ্য ও মতামত প্রকাশ ছাড়াই মন গড়া একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন নায়েব। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য নিয়ে পুনরায় প্রতিবেদন দাখিল করার দাবী জানান তিনি।
এ ঘটনায় ঘাটাইল সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহিনা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে ভুল স্বীকার করে বলেন প্রতিবেদনটি ভুল হতে পারে তবে এটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী মো. আকবর হোসেন প্রথমে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে আদালতে দায়ের করা একটি মামলার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন জানান, যেহেতু এই বিষয়ে ভূমি প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন ২০২৩ অনুযায়ী একটি মামলা রয়েছে সেহেতু এটি আদালতের বিষয়,তবে বিবাদিপক্ষ একটি নারাজি দিলে বিষয়টি পুনঃ তদন্তের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
মোঃ রায়হান মিয়া
ঘাটাইল,টাঙ্গাইল ।।