বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড ‎আহ/তদের হাসপাতালে দেখতে এসে পুলিশের হাতে আ/টক ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা রাজন ভু-য়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধ/র্ষণের চেষ্টা বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত

আশুলিয়ায় রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই-মাংস রেস্তোরাঁ হোটেলে সরবরাহের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১০৭ Time View

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ খাদ্য জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ-দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে সেখানে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস বলে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুরের কাশিমপুর এবং সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহ করা হতো। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকার একটি ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িটিকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দিনের বেলায় বাড়িটি প্রায় জনমানবশূন্য থাকলেও গভীর রাত হলেই শুরু হতো তাদের তৎপরতা। সীমিত আলো এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সেখানে নিয়মিত ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে চক্রটির সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থলে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া এনে পরিত্যক্ত এই বাড়ির ভেতরে নেওয়া হতো। এরপর সারারাত জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলতো। ভোর হওয়ার আগেই প্যাকেটজাত করে সেই মাংস আশুলিয়া, সাভার, উত্তরা ও কাশিমপুরের বিভিন্ন খাবার হোটেলে ও সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ চক্রটির নেপথ্যে রয়েছেন রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে অসুস্থ কিংবা পরিত্যক্ত ঘোড়া সংগ্রহ করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতেন, তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বর্জ্য সংগ্রাহক জানান, কয়েক দিন পরপর আলফাজ নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন দিয়ে পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে যেতে বলতেন। পরে কয়েকজন এসে বস্তাভর্তি বর্জ্য রেখে যেতো। বস্তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতো। কয়েকবার খুলে দেখে তিনি রক্তাক্ত ও পচা পশুর বর্জ্য দেখতে পান। তখন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলেও তিনি এর বেশি কিছু জানতেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেতো। নির্জন পরিবেশ এবং অস্ত্রধারীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দুটি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতো।

ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিলো। রাতের আঁধারে সেখানে কী হয়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিলো। এখন যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অভিযোগের সত্যতা মিললে এটি শুধু খাদ্যে ভেজাল বা প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভোক্তারা প্রতিদিন কম দামের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার খান। ফলে তারা অজান্তেই এই প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলামকে জানানো হয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে শুধু জবাইকারী চক্র নয়, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই মাংস সংগ্রহ, পরিবহন কিংবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত মাংসের উৎস যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin