
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
রৌমারী উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে ৩শত ২২জন কৃষকের পরিবর্তে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে সিন্ডিকেট চক্রের কাছ থেকে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে ধান বেচাকেনার প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা হলেও সেখানে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। লটারিতে নির্বাচিতদের তালিকায় রয়েছেন সিন্ডিকেট চক্রের স্বজনসহ জমিজমা না থাকা ব্যক্তিরাও।
সম্প্রতি, আমন ধান সংগ্রহে উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির অগোচরে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়ের পরোক্ষ যোগসাজশে সিন্ডিকেট চক্রের থেকে প্রতি ৩মেট্রিক টন ধানে ৩হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে খাদ্য গুদামে নিন্মমানের (মিটারবিহীন) ধান নিচ্ছেন। ফলে বঞ্চিত প্রান্তিক কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে ৫হাজার থেকে ৭হাজার টাকায় কৃষকদের থেকে লটারির ৩মেক্ট্রিক টন ধানে স্লিপ ও এনআইডি সংগ্রহ করে ধান সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও খাদ্যগুদামে ট্রলি, ট্রাক্টরে নিন্মমানের ধান ক্রয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে বঞ্চিত মফস্বল অঞ্চলের অসহায় প্রান্তিক কৃষকরা।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্যগুদামে স্থানীয় আভ্যন্তরীণ ২০২৫-২৬খ্রী. আমন ধান সংগ্রহ চলছে কৃষকের পরিবর্তে সিন্ডিকেট চক্রের কাছ থেকে। রৌমারী খাদ্যগুদামে ৩শত ২২জন কৃষকের কাছে ৯শত ৬৬মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা। অভিযোগ রয়েছে, ধানের তালিকায় চাষিদের নাম থাকলেও খাদ্যগুদামে বিক্রি করেননি এক ছটাক ধান। তাঁরা জানেনও না, কে বা কারা তাঁদের নাম ব্যবহার করে ধান সরবরাহ করেছেন। আবার চাল বিক্রির সময় মিলারদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে কেজিতে কমিশন। অনেকটা ওপেন-সিক্রেটে এমন অনিয়মের সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ করেছেন খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে মিলেছে, চাষিদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তালিকা দেখিয়ে গুদামে ধান সরবরাহ করেছেন হাতেগোনা ৭-৮জন প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগী। উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়ের যোগসাজশে ব্যবসায়ীরা এসব ধান সরবরাহ করেছেন। এমনকি তাঁরা চাষিদের নাম ভাঙিয়ে কৌশলে ধানের দামও তুলে নিয়েছেন।
রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, শৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক, রহিম শেখ, হাফিজুর রহমান মোল্লা, দমির উদ্দিন, আইয়ুব আলী মোল্লা, মজিবর রহমান, খলিলুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আমরা গোডাউনে ধান বিক্রি করতে গেলে বিক্রি করতে পারি না। নানা কারণে ধানের খুঁত ধরে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। এ জন্য কয়েক বছর ধরে ধান দিই না। কিন্তু এবারের তালিকায় আমাদের নাম আছে কি-না জানি না। আবার কয়েকজন বলছেন, লটারিতে নাম থাকলেও খাদ্যগুদামে ধান দিতে বিভিন্ন হয়রানি হতে হয়। বাধ্য হয়ে ধানের স্লিপ সস্তা দামে বিক্রি করছি। শুধু তাই নয়, এবার মিলারদের কাছ থেকেও চাল কেনার সময় কেজিপ্রতি বসানো হয়েছে কমিশন। কমিশন বাণিজ্যে রাজি না হলে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলের মালিক জানান, কুড়িগ্রামের বিচ্ছিন্ন উপজেলা রৌমারী খাদ্যগুদামে চাল বিক্রির সময় কমিশন বাণিজ্য অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট। এ বছর কেজিপ্রতি চালে ২০থেকে ৩০পয়সা হারে কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন খাদ্যগুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়। চাল বিক্রির সময় কর্মকর্তাদের খুশি না করলে নানাভাবে হয়রানি করা নতুন ঘটনা নয়। এবারও তাঁদের খুশি করতে কমিশন দিতে হয়েছে। না হলে ট্রাকভর্তি চাল দিনের পর দিন পড়ে থাকে।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায় বলেন, অফিসে আসেন কথা হবে বলেই মুঠোফোন ফোন বন্ধ করে দেন। কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে নাই। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন-২ অধিশাখা (অতিরিক্ত) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বস্তুুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। মাননীয় সচিব স্যারের মাধ্যমে তদন্ত টিম গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।