
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে“মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন(ইউপি)বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকু।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এহসানুল কবির টুকু বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার দাবি, যেসব অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ সম্পূর্ণ আইন ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করেই হয়েছে। অ্যাডহক কমিটি গঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেন বিএনপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এতে ঈর্ষান্বিত একটি পক্ষ ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকারি জমি দখল, আর্থিক অনিয়ম কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে এহসানুল কবির টুকু বলেন, তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে একপাক্ষিক ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে নিজের সুনাম রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গোদাগাড়ীর প্রেমতলী এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ বাণিজ্য ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এহসানুল কবির টুকুর নাম জড়িয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন এহসানুল কবির টুকু।#