
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ ঃ
আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন (মসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়নের পর তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সেবক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।
গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, ময়মনসিংহ একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন নগর হলেও দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী নানা নাগরিক সমস্যার মুখোমুখি। অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত সড়কব্যবস্থা, তীব্র যানজট, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “নগরবাসী যদি আমাকে তাদের সমর্থন ও ভোট দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তাহলে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।”
ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে চাই। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো এবং নাগরিকবান্ধব সেবার সমন্বয়ে ময়মনসিংহকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ, আধুনিক ও সবুজ নগরী উপহার দিতে চাই। আমি সকল নাগরিকের খাদেম হতে চাই।”
দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি দল নয়, নগরবাসীর খাদেম হতে চাই। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার অঙ্গীকার। সবার অংশগ্রহণে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তুলতে চাই।”
দলীয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০১ সালে ময়মনসিংহ শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এবং ২০০২ সালে জামালপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৩ সাল থেকে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৭ সাল থেকে তিনি মহানগর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার ঈশ্বরগঞ্জের আঠারোবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি আল-কুরআন ফাউন্ডেশন, ময়মনসিংহের সভাপতি, মোয়াজ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি, ডিএস কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং নওমহল আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
মসিক নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার পর নগরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নয়নের অঙ্গীকার এবং নাগরিক সমস্যার টেকসই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের প্রত্যাশা করছেন জামায়াতের এই মেয়র প্রার্থী।