
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ অবশেষে রাজশাহী গোদাগাড়ী পৌরসভার গবাদিপশু হাটটি পুনঃরায় নতুন আঙ্গিকে চালু করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু ছাগল ভেড়া হাটে উঠতে শুরু করে এবং ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে। গরু ক্রয়বিক্রয় হচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল রবিবার দৈনিক ইনকিলাবের ৯ নং পৃষ্ঠায় ” গোদাগাড়ীর গবাদিপশুর হাট যেন ডাসবিন” শিরোনামে স্বচিত্র প্রতিবেদন পরিবেশনের পর গোদাগাড়ী পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেন। হাটিট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সেনিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করে পুনরায় হাটটি পুরোদমে শুরু করার জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। পূর্বে এ গবাদিপশুর হাটটি থেকে পৌরসভা কতৃপক্ষ প্রতিবছর ২ কোটি থেকে ২ কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা ইজারা পেতেন পৌরকতৃপক্ষ। পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হতো।
রাজশাহী সিটিহাট চালুর জন্য কিছু অসৎ ইজারদার, মেয়র, প্রভাবশালী দলের দুর্ণীতিবাজ, চাঁদাবাজ নেতা পাতি নেতা হাটটিতে পর্যায়ক্রমে বড় ( বোল্ডার) গরু – মহিষ উঠা বন্ধ করে দেন । কয়েক বছর ছোট গরু ক্রয় বিক্রি হতো। পরবর্তীতে ছোট গরুগুলি অত্যন্ত সুকৌশলে বন্ধ করে সেগুলি রাজশাহীর সিটি হাটে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাপক রয়েছে। ফলে বিগত দেড় যুগেরও সময় ধরে গরু-মহিষ বিহীন চলছে মহিশালবাড়ী গবাদিপশুর হাটটি। তবে শুধুমাত্র ছাগল – ভেড়া দিয়ে চলছে এ হাটটি।
গত শনিবার ০২ মে ও ৫ হাট প্রাঙ্গণে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণে ভেকু ও ট্রাক্টরের, টলির মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
পৌরসভার উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমের ফলে হাট প্রাঙ্গণকে আগের মতো পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, হাটটি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে কয়েকবার হাটটি চালু করার পৌরসভা কতৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহন করলেও কুচক্রীমহলের কালো হাতের ছোবলে তা ভেস্তে যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, হাটটি চালু হলে হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণ ফিরে পাবে, অন লাইন ব্যাংক, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে পারবেন।
স্থানীয় শামীম রেজা জানান নতুন করে হাটে গরু উঠায় দুপুর পর্যন্ত ১২ টি গরু ক্রয় বিক্রয় হয়েছে।
বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান বলেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে পৌর প্রশাসক নড়েচড়ে বসেছেন। হাটে ময়লা পরিস্কার করা হচ্ছে। গত ১৬/১৭ বছরে পতিত শেখ হাসিনার দোসর আওয়ামীলীগ নেতারা সিটি হাট লাগানোর জন্য এ হাটটি নষ্ট করেছে। হাটটি পুনঃরায় চালু করা হলো এটা ভাল দিক।
সাবেক কাউন্সিলর মোফাজ্জুল হোসেন মোফা বলেন,বার বার পৌরকতৃপক্ষকে তাগাদা করে কোন লাভ হয় নি। এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ মায়লা নিয়ে এসে এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখন, নিষেধ করেও কাজ হয়নি। তবে দৈনিক ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে হাট পরিস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজকে হাটে ছোটবড় গরু উঠেছে বেশ কিছু গরু ক্রয় বিক্রয় হয়েছে।
এ হাটের হারানো গৌরব ফিরে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, এলাকার ব্যবসায়ী, সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
পৌর কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগকে সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং হাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।