রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
অ-তিবৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে ধান কেটে দিলেন ভিডিপি সদস্যরা নড়াইলে ই/য়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রে/ফতার ঝিনাইদহ পৌরসভার তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী ক্যাশিয়ার জহুরুলের দু-র্নীতি পাহাড় ‎পাইকগাছায় স্ক্যাব রোগে আ/ক্রান্ত লতা আম দেখতে বাদামি ধুসর বর্ণ; বাজারে চাহিদা নেই জাতির সাথে গা/দ্দারি বে/ঈমানি করবেন না: রাজশাহীতে ডা: শফিকুর রহমান এমপি এপেক্স ক্লাব অফ গোপালগঞ্জের নব/নির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ‎গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন: ৬১৩ পরিবার অ/ন্তর্ভুক্ত জরার্জীন ভবনে এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বসবাস গৌরনদীতে মা/দক প্রতি/রোধে ভূমিকা রাখায় আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সম্মননা প্রদান সলঙ্গার অগ্রণী ব্যাংক স্থানান্তরে পরিচালকের অদৃশ্য শক্তির অভি/যোগ

জাতির সাথে গা/দ্দারি বে/ঈমানি করবেন না: রাজশাহীতে ডা: শফিকুর রহমান এমপি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৮ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ বিএনপিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি এখন জাতীয়বাদী রাজনৈতিক দল থেকে ‘চাঁদাবাজির দলে’ পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির “পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপাদমস্তক সবাই চাঁদাবাজ” এবং একজন চাঁদাবাজেরও বিচার করা হয়নি।
বিএনপির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা জাতিকে ধোকা দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে তা স্বীকার করে নিয়েছেন। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ কোনদিন রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। তাই সৎপথে ফিরে আসুন। জাতির সাথে গাদ্দারি-বেঈমানি করবেন না।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য, রাজশাহী বিভাগ এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায়ও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে, ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। নইলে দেশে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে।’ তিনি বলেন, ‘এটি সঠিক, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধ আমরা যারা বিরোধী দলে ছিলাম দফায় দফায় আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ-তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সকলে রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন সেদিনই সফলতার মুখ দেখেছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা তাদের কাউকে বলে শিশু পার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। লজ্জা যাদের কারণে আপনাদের এই গদি, তাদের আপনারা উপহাস করছেন। এর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হোন। এই জাতি ঠিকই পাওনা বুঝিয়ে দেবে আপনাদের।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সব বিষয়ে কথা বলব। সংসদে কথা বলতে অনুমতি লাগে। যদি সংসদে কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা ওখানে চলে আসব যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতি লাগবে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।’ কারও চোখ রাঙানিতে জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় না জানিয়ে দলীয় প্রধান বলেন, ‘আমাদেরকে মাঝে মাঝে চোখ রাঙানো হয়। কেউ কেউ বলেন, যদি আপনারা এই করেন, ওই করেন; তাহলে আগামীতে এই হবে, সেই হবে। বন্ধু, আমাদেরকে ভয় দেখাবেন না। যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপরে দাঁড়াতে পারে, তাদেরকে কোনোকিছুর ভয় দেখাবেন না। আমাদের নেতৃবৃন্দ রাস্তা রচনা করে গিয়েছেন, জনগণের মুক্তির রাস্তা। এই রাস্তা ধরে আমরা চলতেই থাকব।’

তিনি বলেন, “ইতিহাস চর্চা হবে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, জাতিকে বিভক্ত করার জন্য নয়। ইতিহাসের সঙ্গে বেঈমানি করলে একটি জাতিকে কত বড় মূল্য দিতে হয়, তা জানার জন্য ইতিহাস পড়তে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন উপাচার্য নিয়োগের সমালচনা করে তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের যে পরিনতি হয়েছে আপনাদের সেই পরিনতির পথে হাঁটছেন। আপনাদের দল মাথা থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজ। শষ্যার মধ্যে ভূত, এই ভূত তাড়াতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ১১ দলীয় ঐকের নেতাকর্মীদের।

ভারতে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীকে সম্মান করি। আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন। আমরা চাই আপনাদের দেশের ভেতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আমরা চাই না ধর্মের ভিত্তিতে সেখানে বিভাজন এবং অশান্তি হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেখানে শুধু মুসলিম নামের মানুষকে নাজেহাল করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের দিকে লাল চোখ দেখানো হচ্ছে। বন্ধু, এটা তিতুমীরের বাংলাদেশ। হাজি শরীয়তউল্লাহর বাংলাদেশ। শাহমখদুমের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের দিকে চোখ রাঙাবেন না। হুমকি-ধমকি দিবেন না।’ এ সময় পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানান জামায়াত আমির। বলেন, ‘পদ্মা এবং তিস্তার কারণে বাংলাদেশের চারভাগের একভাগ প্রায় মরুভূমি হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ দিয়েছিল। ৫৫ বছরেও ১৫ দিন শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে পদ্মা শুকনো মৌসুমে মরুভূমি। আর বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের কারণ। এখন পানি দরকার, পানি নাই। সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই, ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা যেন লোকদেখানো না হয়। এই ঘোষণা যেন বাস্তবে রূপ নেয়।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের নেতা বলেছিলেন দুর্নীতিকে টুঁটি চেপে ধরবেন। আপনারা ক্ষমতায় এসেই বললেন- যদি সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হয় এটা চাঁদা হবে না। ধিক্কার জানাই। আজকে আপনাদের পরিচয় হয়েছে। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল। এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল। একজন চাঁদাবাজকেও আপনারা কবজায় আনেন নাই, জনগণ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে- মাথা থেকে পায়ের পাতা সবাই চাঁদাবাজ। নাহলে কেন চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না? সব জায়গায় কেন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে?

গায়ের জোড়ে সব জায়গায় রাজনৈতিক দখলবাজি কেন চলছে? সমাবেশে উপস্থিত
হলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান এমপি। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সমাবেশ পরিচালনা করেন।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin