বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
ঝিনাইদহে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে মানুষের ঢল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বি/দ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর ম/র্মান্তিক মৃ/ত্যু গোদাগাড়ীতে প্রতিবন্ধী হয়েও রায়হানুল এবার এসএসি পাস করে প্র/শাংসায় ভাসছেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে- ময়মনসিংহে ডিসি সাইফুর রহমান শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ই/য়াবাসহ জামায়াতকর্মী পল্লী চিকিৎসক গ্রে/প্তার উজিরপুরে সাংবাদিককে প্রকৌশলী সুব্রত’র হুমকি ‘লা/শ পড়বে, চেয়ার ছাড়ব না’ ঘাগড়া বাড়েরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শার্শার বসতপুরে ৯০ পিস ইয়া/বাসহ দুই কার/বারি গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারাগঞ্জে তালিকাভুক্ত মা/দক কারবারি মোতাহার গ্রে/ফতার শাজাহানপুরে মা/দক সেবনের দায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ড

শার্শায় বোরোর বাম্পার ফলন, তবুও লোকসানে দি/শেহারা কৃষক

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৮ Time View

​নিজস্ব প্রতিবেদক, শার্শা (যশোর) যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও রুদ্রপুরসহ বিভিন্ন মাঠে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। সোনালী ধানের ভারে মাঠ নুয়ে পড়লেও কৃষকের চোখেমুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। বিঘা প্রতি ২২ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হলেও ধানের বর্তমান বাজারমূল্যে উৎপাদন খরচই উঠছে না অনেক কৃষকের। বিশেষ করে যারা জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের লোকসানের পাল্লা বেশ ভারী।

​সরেজমিনে রুদ্রপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ধানের দানার পুষ্টতা ও রঙ বেশ ভালো হয়েছে। তবে এই ভালো ফলনও কৃষকের পকেটে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না।

​রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক আইউব হোসেন জানান তার কষ্টের কথা। এ বছর তিনি বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা দরে জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছেন। তার জমিতে সর্বোচ্চ ২৮ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান ১১১৫ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি দেখছেন, খরচ বাদে বিঘা প্রতি তার প্রায় ১০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

​একই গ্রামের আরেক চাষি এরশাদ আলীর হিসাব আরও করুণ। তিনি ৯ হাজার টাকা বিঘা দরে জমি লিজ নিয়েছিলেন। তার জমির সেচ খরচ: ৩,০০০ টাকা লাঙ্গল, মজুরি ও সার-কীটনাশক: ৭,০০০ টাকা ধান কাটা, বাঁধা ও মাড়াই: ৬,০০০ টাকা ​জমি লিজ: ৯,০০০ টাকা ​মোট খরচ: ২৫,০০০ টাকা

​বিপরীতে তিনি ধান পেয়েছেন ২২ মণ। বর্তমান বাজারে ১১০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে তার প্রাপ্ত আয় মাত্র ২৪,২০০ টাকা। সব মিলিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনির পর লাভের বদলে তাকেও লোকসান গুণতে হচ্ছে।

​চাষিদের মতে, ডিজেল, সার এবং দিনমজুরের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের সরকারি সংগ্রহ মূল্য বা বর্তমান খোলাবাজারের দাম কৃষকদের অনুকূলে নেই।

​হতাশ কণ্ঠে এক চাষি বললেন, সব জিনিসের দাম চড়া, কিন্তু আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাইয়াও পকেটে টাকা নিতে পারছি না। এভাবে লস হলে সামনের মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এলাকার সাধারণ কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ধান কেনা বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে প্রান্তিক চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin