
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারাদেশে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর টাউন হল মোড় থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।
এর আগে টাউনহল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তীতে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সরকারের পতনের জন্য ১৭ দিনও সময় লাগবে না। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও, বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না।
জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সঙ্কট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খাম্বা আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে আহত করছে।
বিগত সরকারের ছাত্র সংগঠনের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, বিগত সরকার সকল প্রশাসনকে ব্যবহার করেও টিকতে পারেনি। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠলে বর্তমান সরকারকেও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী টিকতে পারেননি, বর্তমান সরকারকেও এ ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সরকারের পতনের জন্য ১৭ দিনও সময় লাগবে না। যারা একসময় আত্মগোপনে থেকে লড়াই করেছেন, তাদের অবদানেই আজ অনেকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে জনগণের রায় অর্থাৎ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান নেতারা।
জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আমির মাওলানা কামরুল হাসান এমরুল এর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা আমির মোঃ আব্দুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক কামরুল হাসান মিলন এমপি। সমাবেশে মহানগরের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন-ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আহবায়ক ডাঃ নাসির উদ্দীন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ময়মনসিংহ জেলার আহবায়ক এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম,সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সেহেলসহ ১১দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।।