বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন উল্লাপাড়ায় বিল থেকে বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার পটুয়াখালীতে (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ/পপ্রচার, সাইবার ক্রাইমে মাম/লা; তদন্তে CID মুন্সিগঞ্জে ১৬ বছরের কিশোরীর নিখোজ , উদ্ধারের পর পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অভূতপূর্ব অর্জন তারাগঞ্জে অ/বৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহন: সার জব্দসহ ১০ হাজার টাকা জ/রিমানা দুই বছরের সা-জাপ্রাপ্ত আ-সামি হওয়ায় এরশাদের স্ত্রী বিদিশা গ্রে-ফতার তানোরে স্কুলের জমি উ/দ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন জিয়াউর রহমান প্রত্যেকটি নারীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে পদায়ন করেছিলেন-এমপি সেলিম ‎পাইকগাছা প্রেসক্লাব সহ ২১৮ প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ; প্রশংসায় ভাসছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী

পাইকগাছায় আম গাছ মুকুলে ভরে গেছে; আমের সোনালি মুকুলে সৌরভ ছড়াচ্ছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬২ Time View

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
ঋতুরাজ বসন্তের আগামনে পাইকগাছায় আমের মুকুল সোনালি রঙ ছড়াচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি বাড়ি ও আম বাগান আমের মুকুলে ভরে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
চলতি বছর আমের মুকুলের সোনালি রঙয়ের নান্দনিক দৃশ্য অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষণীয়। তাই চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আমের ভালো ফলন হবে, এমন আশাবাদ স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের।
পাইকগাছাসহ উপকুল এলাকার আমের গাছ মুকুলে ভরে গেছে গাছ। আমের সোনালি মুকুলে সৌরভ ছড়াচ্ছে। বসন্তের শুরু থেকেই মুকুলে শোভা পাচ্ছে গাছ। মৌমাছির দল গুনগুন করে ভিড়তে শুরু করছে আমের মুকুলে। মুকুলের সেই সু-মিষ্টি সুবাসে আন্দোলিত হয়ে উঠেছে চাষীর মনও। আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগানের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুকুলে ভরা গাছ দেখে চাষির মুখে হাসি ফুটেছে। চাষিরা গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
পাইকগাছার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভা ছাড়া বাকি ইউয়িনগুলোতে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫ শত ৮৫ হেক্টর জমিতে মোট আম গাছ রয়েছে। গাছের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। কিছু কিছু পরিকল্পিত আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে সর্বনিন্ম ১০টি গাছ রয়েছে। ৫ শতক, ১০ শতক, ১ বিঘা ও ৩ বিঘা পর্যন্ত আমের বাগান রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আম গাছ আছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাগানের ৯৫ ভাগ গাছে খুব ভালো মুকুল ধরেছে। মাত্র ৫ ভাগ গাছে মুকুল কম ধরেছে। কৃষি অফিস আশা করছে, আম বাগান থেকে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৮ শত মেট্রিক টন আমের ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বাগান মালিক, কৃষিবিদ, আমচাষিরাও আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় আমের ফলন আশানারুপ হবে।
উপজেলায় মল্লিকা, চুষা, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, লতা, বারি ৪, আম্রপলি, গোপাল ভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষের হয়। সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও বাগান মালিক জানান, নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সেচের কারণে সব বাগানে গাছগুলো নিয়মিত খাদ্য পাচ্ছে। ফলে আশানুরূপ ফলন বাড়ছে।
উপজেলার কপিলমুনি, গদাইপুর, হরিঢালী, রাড়ুলী, পৌরসভা, চাঁদখালীসহ বিভিন্ন এলাকা আম বাগানের গাছে মুকুল ভালো হয়েছে। আম চাষি মজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। বাগানের আম গাছে মুকুলে ভরে গেছে। আমরা কৃষি বিভাগে গিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আমাদের বাগানে এসে আমের বাগান ভাল রাখার জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তারপরও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতির বিরূপ আচারণে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হরিঢালীর আকবর হোসেন, গদাইপুরের মোবারক ঢালী, তকিয়ার মুজিবর গাজীসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকে ঋণ করে আগাম আম বাগান নিয়েছে। অনেক চাষী আম বিক্রি ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। তাই আমের মুকুল বের হওয়া আর ফলনের উপর নির্ভর করছে করছে আম চাষির স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, আমাদের পাইকগাছায় প্রায় শতভাগ ভাগ গাছে মুকুল চলে এসেছে, চাষীদের ফুল ফোটার অবস্থায় কোন ঔষধ বা কীটনাশক ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। এ সময়ে বাগানে হপার এবং ফুলকী পোকাগুলো গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পোকা খুব বেশী দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করছি। গাছে আমের মুকুল আসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি পরিচর্যা করতে হবে তা কৃষি অফিস সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে।

প্রেরকঃ
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা খুলনা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin