
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর–শ্যামলবাজার–পান্ডারগাঁও সড়কের নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন সড়কটির কাজ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এতে প্রতিদিন জনদুর্ভোগে পড়ছেন এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই পাশসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসইভাবে ব্লক বসিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে ব্লকের পরিবর্তে নদীতীরে দুর্বল পদ্ধতিতে ঘাস রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এতে কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন ২০০১ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় শ্যামলবাজার–পান্ডারগাঁও সড়ক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় সড়কের মাটি ভরাট ও বাঁধ (এমব্যাংকমেন্ট) নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটির বরাদ্দ বৃদ্ধি করে মানসম্মত, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসইভাবে কাজ সম্পন্ন করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। প্রকল্প অনুযায়ী সড়কটির দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৫০০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ ফুট। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে দেশ বাংলা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
দেশ বাংলা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বলেন, “আমি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করে আসছি। তবে অবশিষ্ট অংশের জন্য রিভাইজড এস্টিমেট ও নতুন ডিজাইন অনুমোদন না হওয়ায় কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এতে নির্মাণস্থলে রাখা আমার কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, “ঢাকা থেকে এলজিআরডির একটি প্রতিনিধি দল আসছে। তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নতুন এস্টিমেট প্রস্তুত করবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে ঠিকাদার অবশিষ্ট কাজ শুরু করবেন এবং সড়কের বাকি অংশও যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান হবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে।