
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরের ধাপ জেল রোড এলাকার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে চলাচলের রাস্তার ওপর দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জমির মালিক ও অপর পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পর সরেজমিনে তদন্ত করে রংপুর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, দোকানঘরের পিলার রাস্তার ওপর নির্মাণ করায় চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়েছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে জমির মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায় প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সিটি করপোরেশনে দেওয়া লিখিত অভিযোগে চিকিৎসক মো. নওশাদ আলী বলেন, ধাপ শ্যামলী লেন এলাকায় তিনি ২০১৭ সালে দুটি কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি কেনেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, জমির দলিলে উল্লেখ থাকা আট ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তার মাঝখানে ‘নূর মিয়া’ নামের এক ব্যক্তি চায়ের দোকান বসিয়েছেন।
অভিযোগে নওশাদ আলী আরও বলেন, ২০২২ সালের ৩ জুন তিনি জমিতে থাকা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে রাস্তার ওপর দোকানটি দেখতে পান। দোকান সরানোর কথা বললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে জানান, সৈয়দ আনোয়ারুল হাসিন (হারুন) তাঁকে সেখানে দোকান বসিয়েছেন। এতে তাঁর ও ভাড়াটিয়ার চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বক্তব্য বা দোকান নির্মাণের বৈধতার বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য ওই নথিতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ওই অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনাব শাহরিন হাছিন বীণা সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। দোকানঘরের গিলারগুলো রাস্তার ওপর নির্মিত হওয়ায় রাস্তা সংকুচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আবেদনকারী ও বিবাদীর জমির মালিকানার কাগজপত্র দেখা প্রয়োজন। এ জন্য উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে শুনানিতে ডাকা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিবাদীকে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নথিপত্রের সঙ্গে নওশাদ আলীর নামে জমির খাজনা পরিশোধের রসিদও রয়েছে। রসিদ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খাজনা বাবদ ১ হাজার ১৯৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ১ অক্টোবরের নোটিশে বলা হয়েছে, রাস্তা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। শুনানিতে জমির মালিকানা ও রাস্তার অবস্থানসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহরিন হাছিন বীণার মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁর স্বামী মাহবুব বলেন, তাঁদের মধ্যে জমি বা রাস্তা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। নওশাদ আলীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, নওশাদের সরাসরি উপস্থিতিতে অন্তত চারবার জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং পারস্পরিক আপস-সমঝোতার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে যে দোকানঘর বা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি তাঁদের নিজস্ব বৈধ জায়গায় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।