
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মুন্না (১৭) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের হেল্পার এবং ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের মাসুম বিল্লার ছেলে।
১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৮:১৫ মিনিটে খুলনার হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর মুন্না স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে এবং তাকে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫/৯/২৬ তারিখ ভর্তি হওয়ায় মুন্না।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুলনা হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তরতাজা এক যুবকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পাইকগাছার ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার মন্ডল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অল্প বয়সে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। ডেঙ্গু রোগীর জ্বর কমে গেলেই অনেকে মনে করেন তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। আসলে মূল ঝুঁকি তখনই থাকে। জ্বর কমে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে। শরীরে সামান্য কোনো জটিলতা দেখা দিলেই অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু এখন আর অবহেলার বিষয় নয়, আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই।
প্রেরকঃ
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা।