
মথি ত্রিপুরা।।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়নের রামদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী নেরওয়ান ত্রিপুরার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টি তদন্ত ও পরিদর্শন করেছেন রুমা উপজেলা শিক্ষা অফিসার।
অভিযোগে রয়েছে, সরকারি দুটো পদে চাকরিরত কারবারি ও দপ্তরি কাম প্রহরী দুটো পদে বেতন ভাতা ভোগ এবং নেরওয়ান ত্রিপুরা বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষক-দপ্তরি সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
০৮(সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,রুমা, বান্দরবান জনাব আব্দুর রাজ্জাক রামদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনকালে স্কুলের সার্বিক অবস্থা ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন স্কুলের বাচ্চাদের লেখাপড়া মান বেশ সন্তোষজনক। মাত্র দুজন শিক্ষক নিয়ে সকল শ্রেনি কার্যক্রম দেখাশোনা করা কঠিন। সেইজন্য কর্মরত দুজন শিক্ষককে ধন্যবাদ বলতেই হয়। আশা করি ভবিষ্যতে আরও এটা বজায় থাকবে।
” পরিদর্শনকালে তিনি রুমা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংমং মার্মা, মুনলাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন বম, সহকারী শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরাকে সংগে নিয়ে যান।
পরিদর্শনের সময় স্কুলের একটি অভিযোগের তদন্ত বিষয়ে তিনি অত্র বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী নেরওয়ান ত্রিপুরাকে কারবারি ও দপ্তরি দুটো হতে পারবেনা এবং বেতন ভাতা ভোগ করতে পারবে না এই দু’টো সরকারি পদ বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হবে মর্মে অভিভাবক সকলের সামনে বলেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সফর সংগী প্রধান শিক্ষক মংমং মার্মা বলেন, দপ্তরি পদটি হলো নবায়নযোগ্য একটি সরকারি প্রজেক্ট। নীতিমালা বহির্ভুত কর্মকান্ড করলে দপ্তরি নিয়োগ বাতিল হতে পারে।
” দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরা ০৩/০১/২০২৩ সাল থেকে কারবারি ও দপ্তরি দুটোই করে আসছিলেন বিধায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিক্তিতে তিনি তদন্ত করার জন্যে রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে রামদু পাড়ায় আসেন। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও দপ্তরি নেরওয়ানের মতামত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রয়োজনে তাদের কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। তিনি নিশ্চিত কোন নির্দেশনা ছাড়াই রুমা ইউএনও বরাবর জানাবেন বলে রহস্যাবৃত্ত সিদ্ধান্ত আশ্বাস জানিয়ে যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অগ্রগতি দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরা যেকোন সময় ব্যাহত করতে পারে সে আশংকা জানালেও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেদিকটা গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান বলে অভিভাবকদের মধ্যে বিব্রত বোধ সৃষ্টি হয়েছে । এ ছাড়া সফর সংগী রুমা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক গর্দেন ত্রিপুরা বান্দরবান বোমাং সার্কেলের কারবারী সনদে লিপিবদ্ধ বিষয় বিষয় উল্লেখ করে দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরাকে উদ্দেশ্য করে ও সকলের জ্ঞাতার্থে বলেন, কারবারি সনদে উল্লেখ রয়েছে নিজ পাড়া থেকে অন্যত্র পাড়া গঠন করে আলাদা হয়ে গিয়ে স্থায়ী পাড়া গঠন করলে পুর্ববর্তি কারবারী সনদ বাতিল বলে গন্য হবে। সুতরাং এ বিষয়ে নেরওয়ান ত্রিপুরাকে বোঝা দরকার।” পাড়াবাসী ও অভিভাবক সকলে দপ্তরি নেরওয়ানকে স্কুলের কার্যক্রমে অংশ করতে দেখতে না চাওয়ার ব্যপারটি পরিদর্শনকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তারা জানিয়ে দেন।
শেষে পাড়াবাসী ও অভিভাবকরা বলেন,
, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, কর্মচারী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা জরুরি কোনো ধরনের অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা বিদ্যালয়ে ছাত্র/ ছাত্রীদের চরম ক্ষতিকর। তাই যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আহবান করেন অভিভাবক ও স্হানীয় পাড়াবাসীরা।