বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন উল্লাপাড়ায় বিল থেকে বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার পটুয়াখালীতে (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ/পপ্রচার, সাইবার ক্রাইমে মাম/লা; তদন্তে CID মুন্সিগঞ্জে ১৬ বছরের কিশোরীর নিখোজ , উদ্ধারের পর পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অভূতপূর্ব অর্জন তারাগঞ্জে অ/বৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহন: সার জব্দসহ ১০ হাজার টাকা জ/রিমানা দুই বছরের সা-জাপ্রাপ্ত আ-সামি হওয়ায় এরশাদের স্ত্রী বিদিশা গ্রে-ফতার তানোরে স্কুলের জমি উ/দ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন জিয়াউর রহমান প্রত্যেকটি নারীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে পদায়ন করেছিলেন-এমপি সেলিম ‎পাইকগাছা প্রেসক্লাব সহ ২১৮ প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ; প্রশংসায় ভাসছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী

মোরেলগঞ্জে সুপেয় পানির দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ Time View

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জোয়ারের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে নিরাপদ পানির উৎসগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট দ্রুত নিরসন এবং উপকূলবাসীর পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে মোরেলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক নারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, যুবসমাজ, কমিউনিটি নেতা, এনজিও প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ‘সৃজন’ প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট, নিরাপদ পানির অভাবে মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
পানির জন্য দীর্ঘ পথ—সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে নারী ও শিশু
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানেই তা পান ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে মিষ্টি পানির পুকুর, জলাধার ও অন্যান্য উৎস নষ্ট করে দেয়।
ফলে অনেক পরিবারকে সুপেয় পানির জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের মাথায় কলসি বা বিভিন্ন পাত্র নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে শুধু সময় ও শ্রমই ব্যয় হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক নানা ঝুঁকি।
বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার দায়িত্ব যখন একজন নারী বা শিশুর ওপর পড়ে, তখন তা কেবল পানির সংকট থাকে না—এটি হয়ে ওঠে বৈষম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শ্রমের অপচয় এবং মানবিক সংকটের বিষয়। তাই নিরাপদ পানির সমস্যাকে সাধারণ জনদুর্ভোগ হিসেবে দেখলে চলবে না; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট।
উপকূলের পানির সংকট এখন জলবায়ু সংকটেরই প্রতিচ্ছবি
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক জোয়ার ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রবণতা মানুষের জীবনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। একদিকে নদী ও খালের পানিতে লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপদ মিষ্টি পানির উৎসগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
এ অবস্থায় উপকূলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জরুরি বলে মত দেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
যেসব দাবি তুলে ধরা হলো
নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা থেকে উপকূলবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি ও কমিউনিটি পর্যায়ে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সরকারি পুকুর ও জলাধার নিয়মিত খনন ও পুনঃখনন, বাঁধ সংস্কার ও শক্তিশালী করে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
এ ছাড়া অকার্যকর পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) দ্রুত মেরামত ও নতুন পিএসএফ স্থাপন, মানুষের জন্য পানির মান পরীক্ষার সুবিধা সহজলভ্য করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সক্রিয় করার দাবি জানানো হয়।
সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী ও শিশুদের যে অতিরিক্ত শ্রম ও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তা কমাতে বিশেষ সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি ওঠে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে কর্মসূচিতে ভিন্ন মাত্রা
নাগরিক সমাবেশে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পানির সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে তারা নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে নারীদের দিনের একটি বড় সময় চলে যায়। এতে পরিবারের কাজ, সন্তানদের যত্ন এবং আয়মূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদেরও পানি সংগ্রহের কাজে যুক্ত হতে হয়। ফলে নিরাপদ পানির সংকট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা
কর্মসূচিতে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যুবসমাজের সদস্য, শিক্ষক সমাজ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান বলেন, উপকূলের মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মানুষের বাস্তব সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরে টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান।
পদযাত্রায় উচ্চারিত হয় নিরাপদ পানির দাবি
নাগরিক সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা পদযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় উপকূলবাসীর নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করা, দ্রুত পানি সংকট নিরসন, লবণাক্ততার আগ্রাসন রোধ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি তুলে ধরা হয়।
পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা নিরাপদ পানির কষ্ট

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin