
গোদাগাড়ী (রাজশাহী ) উপজেলা সংবাদদাতাঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৬ষ্ঠ শ্রণির ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে প্রশাংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী আফিসার ইসরাত জাহান। গভীর রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন বর সাকিব আলী, লোকজন নিয়ে গভীর রাতে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে আকতার হোসেনের বাড়ীতে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া কনে আরিফা খাতুনকে বিয়ে করতে যান। বিয়ের জন্য রান্নার সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন এবং এ সময় বরসহ বরযাত্রী বাড়ীর পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। বর সকিব আলীর পিতার নাম রবিউল ইসলাম, বাড়ী পৌরসভা এলাকার রেলবাজার এলাকায়।
আরিফা খাতুন উপজেলার মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী, বয়স ১২ বছর । আর বর সাকিবের বয়স ১৬ বছর সে গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে টেষ্ট পরীক্ষা দিয়ে ৬ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় এসএসি পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি পান নি।
কনের মা মোসাঃ মহাসিনা খাতুন জানান, যুগের অবস্থা ভাল নয়। মেয়ে নিয়ে চিন্তায় থাকি। তাই রাতে বিয়ের আয়োজন করেছিলাম। ইউএনও স্যার এসে প্রথমে আমাদেরকে ধরে নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। অনেক অনুরোধ করে ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেয়া শর্তে মুচলেকা লিখে দেয়া শর্তে ছাড়া পান। আমার স্বামী ও মেয়ে বিয়েতে রাজী ছিলেন না। কিন্তু আমি ভুল করে রাজমিস্ত্রির যোগালি, টেষ্টে ৬ বিষয়ে ফেল করা ছেলে সাথে বিয়ে দিচ্ছিলাম। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। চোখ এখন খুলে গেছে, আর বিয়ে দিব না, মেয়েকে চাকুরী করাবো, তারপর বিয়ের চিন্তা করবো। স্যার আমাদের বুঝিয়ে রাত সাড়ে ১২ টায় বাড়ী থেকে যান। খাবার নষ্ট হয়েছে, তাতে দুঃখ নেই, মেয়ের বাল্যবিয়ে দেয়া হয় নি এতে আমরা খুশি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, গোদাগাড়ীতে ৫ম. ৬ষ্ঠ শ্রেণির বিয়ে হয়, এটা খুবই দুঃখজনক। আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আরিফা খাতুনের বিয়ে বন্ধ করেছি। তাদের একটা সুযোগ দিয়েছি। ভবিষ্যতে ১৮বছরের আগে আর বিয়ে দিবেন না বলে আমাদের নিকট অঙ্গিকার করেছে। রাষ্ট্রের নির্দেশনা মোতাবেক বাল্যবিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অভিভাবক, কাজি, ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সমাজের নেতা, জনপ্রতিনিধি সাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বার্থে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোথায় বাল্যবিয়ে, মাদক, সার সংকট ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকলে আমাকে এ মোবাইল নাম্বারে ০১৭৬১৪৯১২২১ জানাবেন আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিব।
মহিশালবাড়ী বাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, আমরা বাল্য প্রতিরোধে মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বুঝানো হয়। ইউএনও, ওসি, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর বিভিন্ন স্থানে ও শিক্ষার্থীদের দেয়া আছে বাল্য বিয়ের সংবাদ জানানোর জন্য। অভিভাবক অসচেতেনতার জন্য কোন পদ্ধতি কাজে আসছে না। যদি ইমাম, পুরহিত, কাজী, জনপ্রতিনিধ, প্রতিষ্ঠান প্রধান, ঘটকদের নিয়ে একটি উপজেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা করা হয় তবে বাল্যবিয়ে কিছুটা হলেও কমে আসতো।
মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী,রাজশাহী।।