বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন উল্লাপাড়ায় বিল থেকে বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার পটুয়াখালীতে (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ/পপ্রচার, সাইবার ক্রাইমে মাম/লা; তদন্তে CID মুন্সিগঞ্জে ১৬ বছরের কিশোরীর নিখোজ , উদ্ধারের পর পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অভূতপূর্ব অর্জন তারাগঞ্জে অ/বৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহন: সার জব্দসহ ১০ হাজার টাকা জ/রিমানা দুই বছরের সা-জাপ্রাপ্ত আ-সামি হওয়ায় এরশাদের স্ত্রী বিদিশা গ্রে-ফতার তানোরে স্কুলের জমি উ/দ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন জিয়াউর রহমান প্রত্যেকটি নারীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে পদায়ন করেছিলেন-এমপি সেলিম ‎পাইকগাছা প্রেসক্লাব সহ ২১৮ প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ; প্রশংসায় ভাসছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী

‎কেওড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ Time View

‎ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
‎অর্থনীতিতে কেওড়া ফলের প্রভাব ও সম্ভাবনা
‎সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে কেওড়া ফল একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা যোগ করেছে। স্থানীয়ভাবে এটি দিয়ে সুস্বাদু খাবার, আচার ও চাটনি তৈরি করা হয়। এছাড়া এর বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুষ্টিগুণ উপকূলের মানুষের আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
‎সুন্দরবনের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কেওড়া ফল উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশাল নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বর্ষাকালে বা উপকূলের কঠিন সময়ে যখন সুন্দরবনে প্রবেশে নানা নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন এই বুনো ফলটি সংগ্রহ ও বিক্রি করে হাজার হাজার পরিবার তাদের জীবন ও জীবিকা জোগান দিচ্ছে।উপকূলের হাজার হাজার প্রান্তিক মানুষ বনের নদী-খালের চর থেকে প্রাকৃতিকভাবে ঝরে পড়া কেওড়া ফল সংগ্রহ করেন। এগুলো বাজারে বিক্রি করে তারা প্রতিদিন ভালো টাকা আয় করছেন। উপকূলের প্রান্তিক নারীরা দলগতভাবে সুন্দরবনের বাঁধ ও চরে কেওড়া গাছ রোপণ করছেন। তারা এই ফল সংগ্রহ করে ঘরে বসে বিভিন্ন খাবার তৈরি ও বিক্রি করে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনছেন।কেওড়া ফল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আচার, চাটনি, জ্যাম এবং জেলি তৈরি করা সম্ভব। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যদি ছোট ছোট ফুড প্রসেসিং বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা যায়, তবে এটি বড় একটি কুটির শিল্পে রূপ নেবে। সুন্দরবনের মৌয়ালদের উৎপাদিত মধুর একটি বড় অংশ আসে কেওড়া ফুল থেকে। কেওড়া গাছ বাড়লে মধু উৎপাদন বাড়ে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করে।কেওড়া গাছের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভবিষ্যতে উপকূলীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে। খাদ্যসংস্কৃতি ও পুষ্টিগুণ কেওড়া শুধু আয়ের উৎসই নয়, এর রয়েছে অনন্য পুষ্টিগুণ ও স্থানীয় বাজারে প্রচুর চাহিদা। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল উপকূলীয় মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির বড় অংশ। তারা ছোট চিংড়ি মাছ ও মসুর ডাল দিয়ে কেওড়া ফল রান্না করতে ভালোবাসেন।বিজ্ঞানীদের মতে, কেওড়া ফলে আমলকী বা কমলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও জিংক রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরকে সুস্থ রাখে। এটি পেটের পীড়া, আমাশয় ও বদহজম দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।সুন্দরবনের কেওড়া ফল উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৌসুমি এই টক ফল সংগ্রহ ও বিক্রি করে উপকূলের হাজার হাজার মানুষ বাড়তি আয় করছেন, যা তাদের পারিবারিক সচ্ছলতা ও অর্থনৈতিক সহায়তা করছে।প্রকৃতির পরম ঢালঅর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কেওড়া গাছ উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ। কেওড়া গাছ নতুন জেগে ওঠা চর ও কর্দমাক্ত মাটিতে দ্রুত জন্মায় এবং এর শিকড় মাটি শক্ত করে ধরে রাখে। উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঝড়ের বিরুদ্ধে এটি প্রাকৃতিক ঢাল বা প্রক্ষাপক হিসেবে কাজ করে। এর শক্তিশালী শিকড় নদীর পাড়ের মাটি আঁকড়ে ধরে ভূমি ক্ষয় রোধ করে। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের বড় ঢেউয়ের আঘাত থেকে উপকূলের গ্রামগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যানগ্রোভ বনের ভূমিকা অপরিসীম।


‎প্রেরকঃ
‎ইমদাদুল হক,
‎পাইকগাছা,খুলনা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin