বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন উল্লাপাড়ায় বিল থেকে বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার পটুয়াখালীতে (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ/পপ্রচার, সাইবার ক্রাইমে মাম/লা; তদন্তে CID মুন্সিগঞ্জে ১৬ বছরের কিশোরীর নিখোজ , উদ্ধারের পর পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অভূতপূর্ব অর্জন তারাগঞ্জে অ/বৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহন: সার জব্দসহ ১০ হাজার টাকা জ/রিমানা দুই বছরের সা-জাপ্রাপ্ত আ-সামি হওয়ায় এরশাদের স্ত্রী বিদিশা গ্রে-ফতার তানোরে স্কুলের জমি উ/দ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন জিয়াউর রহমান প্রত্যেকটি নারীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে পদায়ন করেছিলেন-এমপি সেলিম ‎পাইকগাছা প্রেসক্লাব সহ ২১৮ প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ; প্রশংসায় ভাসছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী

হিমাগারে পঁচছে আলু দায় নিবে কে ?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৩ Time View

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে পঁচছে আলু চাষিদের মাঝে বাড়ছে হতাশা।এসব পচাঁ আলুর দায় নিবে কে ?আর ক্ষতিপুরুণ দিবে কে ? এখানে আলু চাষিদের তো কোনো দোষ নাই।তাহলে এই পচাঁ আলুর দায় তারা নিবেন কেন ? হিমাগারেে তো নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। বরং তাদের অতি লোভের কারণে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষন করায় আলু নষ্ট হচ্ছে। কিন্ত্ত তারা বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেস্টা করছে।আলু চাষিরা এবিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে হিমাগার মালিকেরা বলছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তারা চরম বেকায়দায় পড়েছে। আলু পচন রোধে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালাতে হচ্ছে তাঁদের। এতে প্রতি ঘণ্টায় বাড়তি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা।অথচ বিদ্যুৎ আশা-য়াওয়ার সঙ্গে তো হিমাগারে আলু পঁচার খুব একটা দায় নাই, কারণ তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। চাষিদের অভিযোগ হিমাগার কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায় আড়াল করতে চাইছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপে অনেক হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলু চাষিরা বলছে, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু রাখায় আলু পচনের ঝুঁকি বাড়ছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়ি ভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে।উন্নত মানের ফসলের বীজ নির্বাচন করা
এই হিমাগারে আলু রেখেছিলেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু লোড নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, লোডশেডিংয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণে আলু পচে যাচ্ছে। তাঁরা মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু লোড নিয়েছেন। এ কারণে আলু নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ওভার লোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ জন্য আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে খরচ হয়। অতিরিক্ত লোডের কারণে অনেক হিমাগার এবার এই কাজটি করছে না। এ কারণে আলু নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কতটা হবে, তা ধারণার বাইরে।
উদাহরণ দিয়ে ডনি বলেন, রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাপে পড়ে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ কারণে আলুরও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ফজলুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগার মালিকদের খরচ বেড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। কিন্তু এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। এক ঘণ্টা জেনারেটর চালালেই বাড়তি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।তিনি বলেন, এমনিতেই বিদ্যুৎ বিল বেশি। হিমাগারগুলোকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের খরচ যোগ হলে আমাদের আরও সমস্যা হয়। এ জন্য আমরা চাই, হিমাগারগুলোতে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে। এখন পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারগুলোতে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে কেউ আমাকে ফোনও করেননি। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও তাঁদের সমস্যা হয় না।#

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin