বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মোরেলগঞ্জে জামায়াত-বিএনপির পা/ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন উল্লাপাড়ায় বিল থেকে বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার পটুয়াখালীতে (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ/পপ্রচার, সাইবার ক্রাইমে মাম/লা; তদন্তে CID মুন্সিগঞ্জে ১৬ বছরের কিশোরীর নিখোজ , উদ্ধারের পর পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অভূতপূর্ব অর্জন তারাগঞ্জে অ/বৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহন: সার জব্দসহ ১০ হাজার টাকা জ/রিমানা দুই বছরের সা-জাপ্রাপ্ত আ-সামি হওয়ায় এরশাদের স্ত্রী বিদিশা গ্রে-ফতার তানোরে স্কুলের জমি উ/দ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন জিয়াউর রহমান প্রত্যেকটি নারীর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সেক্টরে পদায়ন করেছিলেন-এমপি সেলিম ‎পাইকগাছা প্রেসক্লাব সহ ২১৮ প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ; প্রশংসায় ভাসছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকগনের চাকুরী বয়সসীমা ৬৫ বছর করা কি যুক্তিক ?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১২৭ Time View

লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষকগণ হচ্ছে জাতি গড়ার কারিগর। বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী অবসর গ্রহনের পর বছের বছর অপেক্ষা করে অবসর, কল্যাণের টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবণ করছেন, কেউ চিকিৎসাসেবা মৃত্যুরদিকে ধাবিত হচ্ছে। আবার টাকা না পেয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় গ্রহন করছেন।
অপরদিকে বেসরকারী শিক্ষকদের অবসর গ্রহনের পর ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার জন্য একটি পরিপত্র জারি করেছেন সরকার। এর আগে এধরনের নিয়ম ছিল। বাতিলও করা হয়েছিল। কিন্তু কাজে আসবে বলে মনে হয় না। তার চেয়ে যদি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মত বেসরকরী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকুরী বয়সসীমা ৬৫ করা হয় সেটা হবে বাস্তবধর্মী সময় উপযোগি একটি পদক্ষেপ। কিন্তু বিড়ালের গলাই ঘন্টা বাঁধবে কে?

মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।
এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। একটি জাতির অগ্রগতি কিংবা উন্নতির প্রধান সোপান হলো শিক্ষা। শিক্ষার ওপর নির্ভর করেই সে জাতি গড়ে ওঠে। তাই বলা হয়, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ এ জন্য বিশিষ্টজনেরা বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা জাতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তাদের অগ্রগতির পেছনে শক্তি হিসেবে শুধু অস্ত্র-সমারস্ত্র কাজ করেনি; বরং কাজ করেছে তাদের শিক্ষাদীক্ষা। আর এই শিক্ষা শব্দটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শিক্ষকতা নামক মহান পেশা। আর বেসরকারী শিক্ষকগণ চাকুরী জীবণ শেষ করে তাদের বেতন ভাতা প্রতি মাসে ১০ ভাগ কেটে রাখা টাকা যদি সময়মত ফেরত না পায়, অবসর কল্যাণের টাকা পেতে ৪/৫ বছর সময় পার হয়ে যায় তবে ওই সব শিক্ষকদের জীবণ কেমনভাবে চলে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ কখনও ভেবে দেখেছেন কি? অবসর কল্যাণের টাকা পেতে কয়েক জোড়া জুতা স্যান্ডেল ক্ষয় হয়ে যায় কিন্ত টাকা নামক সোনার হরিণের দেখা পাওয়া যায় না। পত্রিকার পাতা, টিভিতে যখন দেখা যায় অবসর ও কল্যাণের টাকা না পেয়েই না ফেরার দেশে চলে গেলেন শিক্ষক আব্দুল মান্নান দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার প্রহর গুনেও ভাগ্যে জুটেনি অবসর কল্যানের টাকা। মান্নানের মত কয়েক লক্ষ শিক্ষক অবসর কল্যাণের টাকার জন্য তীর্থের কাঁকের ন্যয় চেয়ে আছেন। ৬০ বছর শিক্ষককতা জীবণ শেষ করে পূ্র্বের অভিজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেন কোন কোচিং সেন্টার কিংবা স্কুল, কলেজ। সে সব প্রতিষ্ঠানগুলিতে তারা সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। শিক্ষার্থীগণ স্কুল, কলেজ না গিয়ে কোচিং, প্রাইভেট হোমে ভীড় করে। অনেক শিক্ষক, শিক্ষিকা অবসরে যাওয়ার পূর্বে এধরনে প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়ে থাকেন। থাকবেন না কেন? তার যে সংসার চলে না। তাই তারা দ্বিতীয় পেশায় যুক্ত হন এটা আমাদের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহোদয় কিছুটা অনুধাবন করেছেন। সংসদে দেয়া বক্তব্যে দেশের কোটি কোটি মানুষ বুঝে গেছেন। উনার হাত দিয়ে বেসরকরী এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ স্বর্ণযুগ শুরু করতে যাচ্ছেন ইনসাল্লাহ।

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য কথা অবসরের টাকার অপেক্ষায় রয়েছেন ১ লক্ষ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষক। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে আটকে আছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতার টাকা। শেষ বয়সে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পেনশনের অর্থ পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। এই অবসর ভাতার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। অনেক শিক্ষক এই টাকা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে করছেন মানবেতর জীবন। কেউ চিকিৎসার অভাবে পড়ে আছেন বিছানায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টিতে জোর দেয়। শিক্ষকদের টাকা প্রদানে আগামী বাজেটে আসছে ৩ হাজার কোটি টাকা। ১ লাখের অধিক শিক্ষকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে প্রয়োজন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন থমকে থাকা এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এই অর্থ বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আসছে। শিক্ষকদের পাওনা টাকা দিতে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরই প্রেক্ষিতে মিলেছে ৩ হাজার কোটি টাকার আশ্বাস।

শিক্ষকদের অবসর ভাতার টাকা প্রদানে সোচ্চার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে হয়েছে একাধিক বৈঠক। অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষকের পাওনা মেটাতে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। অবসর সুবিধা বোর্ডে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত জমা হয়েছে ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন। যা মেটাতে প্রয়োজন ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য দরকার ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আওয়ামী আমলে টাকা নয়ছয় হওয়ায় ভেস্তে গেছে চেইন অব কমান্ড। ২০২৬ সালে এসেও এখনো ২০২২ সালের আবেদন জমা পড়া টাকাই দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন শিক্ষকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ নিয়ে আলোচনা হলেও সুবিধা পাননি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যালোচনা সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিশেষ বরাদ্দ পেতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিলে।

একজন শিক্ষক মাসে ১০ শতাংশ জমা দেন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ অবসর এবং ৪ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক ১০০ টাকাসহ মাসে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু এই সময়ে পাওনা নিষ্পত্তি করতে লাগে ১২৫ কোটি টাকা। যা সরকারের বরাদ্দ ও বন্ড থেকে আসে। অবসরের টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে তিনি অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য চান ১ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারী শিক্ষকদের অবসর গ্রহনের সময় ৬০ থেকে ৬৫ করা হলে দ্রুত বস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী প্রয়োজন। এটা পারেন শিরক্ষাবন্ধন প্রধানমন্ত্রী মহামান্য প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের আবেদনের জন্য বয়স সীমা ৩২ বছর এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকগনের ৩৫ বছর করেছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শিক্ষকদের দুফায় বয়স ৬৫ বছর। কিন্তু এটা কোন গ্রহনযোগ্য সমাধান নয়। বেশীর ভাগ শিক্ষক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আগ্রহী নয়। ৯৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার সামর্থ্য নেই। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আভ্যন্তরিক কোন্দল আরও জোরালো হয়। চেন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার ব্যাপক নজীর রয়েছে। তাই সর্বজন স্বীকৃত গ্রহণযোগ্য সমাধান হচ্ছে বেসরকারী শিক্ষকদের চাকুরী থেকে অবসরের বয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মত ৬৫ বছর করা জরুরী, অত্যন্ত যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত। বেসরকারী শিক্ষকদের চাকুরীতে অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সরকারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবে ইনসাল্লাহ।

শিক্ষক নেতা, সচেতন শিক্ষকসহ ন্যায়সঙ্গত দাবী এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারন করা। চাকরির প্রবেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৩২ বছর আর বেসরকারীতে ৩৫ বছর করা হয়েছে। অবসর ও কল্যাণের টাকা পেতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে ৫/৬ বছর তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করা হয়েছে। সুতরাং এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দাবিটি গনদাবিতে রুপ নিতে যাচ্ছে।

এ দিকে একটি সূত্র মতে, দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের মোট ১২ হাজার ৯৫১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। বাকি পদগুলো মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শূন্যপদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলোঃ

প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ (Principal/Headmaster): সারা দেশে প্রায় ১০হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের খালি পদের সংখ্যা ৫০৪টি। সহকারী প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ (Vice Principal/Assistant Headmaster): প্রধান পদের বাইরে সহকারী প্রধান ও সমমানের পদেও কয়েক হাজার পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক অবসরে গেলে এনটিআরসিএ মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়োগ পেয়ে থাকেন তবে প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী সুপার এ সব প্রশাসনিক পদ গুলি আমলাতন্ত্রিক, রাজনৈতিক জড়িলতার করানে বছরের পর বছর পদগুলি শূন্য থেকে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলি অভিভাবকবিহীন হয়ে পড়েন। শিক্ষকদের মাঝে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে, চেন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। বিরোধ, দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে, একপক্ষ অন্যপক্ষ সাইজ করতে মারামারি, মামলা, হামলার করে এক প্রতিষ্ঠানে হাফ ডজন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে শিক্ষার মান দিন দিন দিল তলানীতে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উপজেলার রাজাবাড়ীহাট ডিগ্রি কলেজে প্রায়ত রেজাউল করীম অবসর গ্রহনের পূর্বে ভূয়া নিয়োগ, জাল সনদপত্রে নিয়োগ, সাবজেটের অনুমতি না দিয়ে নিয়োগ, মুঞ্জরী নাবায়নে বিষয় না থাকলেও ৪ শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে এমপিও ভুক্ত করাসহ নানা অনিয়মে হাফ ডজনের বেশী মামলা চলমান। শিক্ষকগণ অবরস গ্রহনের পর অধ্যক্ষ সেলীম রেজার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে অযৌক্তিক কারণে কলেজে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে কলেজের চেন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, শিক্ষার নিম্নগামী। কলেজের বানিজ্য বিভাগে ৩ শিক্ষক বেতনভাতা গ্রহন করলেও গত তিন বছর ধরে একটিও শিক্ষার্থী নেই বলে জানা গেছে। একই অবস্থা বিরাজ কাঁকনহাট ডিগ্রি কলেজ, করছে হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কাঁকনহাট উচ্চ বিদ্যালয়, প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজ দেশের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা একই।

এদিকে বর্তমান সরকার বেসরকারি স্কুল-কলেজে শর্ত সাপেক্ষে চুক্তিভিত্তিক প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৮ জুন এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমপিও না নেওয়ার শর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য। অন্তবর্তীকালীন মানে হলো অবসরজনিত কোনো পদ শূন্য হলে এবং এনটিআরসিএর নিয়োগ না হওয়া অবধি। যেহেতু এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় নেয়। তাই এমন ব্যবস্থা। নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন পাবেন। কোনোভাবেই এমপিওভুক্ত হতে পারবেন না। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থাকতে পারবেন। যেখানে সরকার বেতন দিবেন না অযাথা শ্রম দিবেন কেন? সদ্য অবসর গ্রহন করা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাফুজুল আলম তোতা বলেন, আমি যে সম্মান নিয়ে আমি বিদায় নিয়ে এসেছি সে সম্মান কী চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ নিয়ে পাব কোন দিনই পাব না। তাই আমাদের দাবী চিক্তিভিক্তক নিয়োগ না দিয়ে বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরীতে বয়সসীমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো ৬৫ বছর করার দাবী করচ্ছি। ৫ বছর বৃদ্ধি করা হলে সরকার শিক্ষক গনঅবসর কল্যানের টাকার জন্য ৫ বছর সময় পাবেন, শিক্ষক কর্মচারীগণ আরও পাঁচবছর চাকুরী করে পরিবার পরিজন নিয়ে ঠিকভাবে সংসার চালাতে পারবেন। আর অবসরগ্রহণের পর দ্বিতীয় পেশা খুুঁজতে হবে না

চুক্তিভিক্তিক ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাস থেকে এমন নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে এমপিও না নেয়ার শর্তে সরকারের অনুমোদন নিয়ে চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে নীতিমালায় দেওয়া এ সুযোগের কার্যকারিতা স্থগিত করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বহু স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা অবসরে যাওয়ার পরেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে কয়েকশ প্রধান-শিক্ষক ও অধ্যক্ষের করা এ আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর ১১.১১ অনুচ্ছেদে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছিল। এমপিও নীতিমালা অনুসারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে (উচ্চতর পদ বলতে শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান বুঝাবে) নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ৬০ বছর পর্যন্ত পাবেন।

এখন প্রশ্ন হলো সরকার যদি বেতনভাতা বা এমপিও না দেন তবে কেন? চাকুরী করবেন। প্রতিষ্ঠানের অর্থ দিয়ে ওই শিক্ষকের সংসার চলবে না। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ যদি ৬৫ বছর পর্যন্ত যোগ্য থেকে চাকুরী করতে পারেন। তবে বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কেন চাকুরী করতে পারবেন না। তারা ৬০ কি বছর বয়সে অযোগ্য হয়ে যান। একচোখে লবণ অন্য তেল দেয়ার মত অবস্থা। এক দেশে দু আইন থাকতে পারে না। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা ব্যবস্থার কথা ভেবে শর্ত সাপেক্ষে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিল করে, শিক্ষাকতায় নিয়োগে সর্বচ্চ প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর সুবিবেচনা করে দেশের বেসরকারী এমপিভুক্ত শিক্ষকদের চাকুরীর সময়সীমা ৬৫ বছর করা সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে। দেশের কয়েক লক্ষ শিক্ষক তীর্থের কাকের ন্যায় চেয়ে আছেন। বেসরকারী এমপিভুক্ত শিক্ষক সমাজ প্রায়ত তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই পারেন এ মহৎ কাজটি করতে। উনার ইচ্ছায় যথেষ্ট। এ কাজটি করতে পারলে লাখ লাখ বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষা পরিবারন ও জাতি আপনাদের আজীবন স্মরণ করবেন। লাখ লাখ শিক্ষা পরিবারের সদস্যগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থানা করবেন। বেসরকারী শিক্ষকসমাজ খুশি হবেন! ইনসাল্লাহ।

লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin