শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
পানিতে ডু্বে ৫ শিশুর মৃ/ত্যুর হয়েছে- সকলের বয়স ৮- ১১ বছর চেক জালিয়াতির মা-মলা, ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রে-প্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্তঃসত্ত্বার সন্তান মা-রা যাওয়ার অভিযোগ মধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা উজিরপুরে ভিটেমাটি ও পারিবারিক কবরস্থান উচ্ছেদের হুম-কি প্রকৌশলীর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আপ্তাব নগরে ওসির নেতৃত্বে মাদক বিরোধী গণমিছিল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও ডিবির জালে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্র ও ভুয়া ডিবি সদস্য গ্রে-ফতার ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজির সাহিত্যের আলোয় নতুন পথচলা, দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ তেলীগ্রাম বাজারে সংঘ-টিত ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বুলবুল

ক্ষেতলালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গভীর নলকূপের পাইপ স্থাপনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৯৮ Time View

মো. দেলোয়ার হোসেন বাবু

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ গ্রামের মাঠে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল প্রকল্পের পাইপ মাটির নিচ দিয়ে স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাশের ডিপ টিউবওয়েলের মালিক মো. গাজীউল হক চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্ষেতলাল সেচ কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাখারুঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মো. গাজীউল হক চৌধুরী দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে এলাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের মৃত রায়হান চৌধুরীর ছেলে ধীমান চৌধুরী গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে তার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে ভিকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি খন করে পাইপলাইন স্থাপন করেন এবং পাইপগুলো স্কিম এলাকায় সরবরাহ করেন।

গাজীউল হক চৌধুরীর দাবি, ১৯ জুন ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার ডিপ টিউবওয়েলের চালক মো. ইব্রাহিমকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে পান যে, তার দীর্ঘদিনের সেচ এলাকার ভেতরে মাটি খন করে পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধীমান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের সেচ স্কিম ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার স্কিমের ভেতরে অবৈধভাবে পাইপ স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সরেজমিন চিত্রঃ সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষেতলাল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাখারুঞ্জ গ্রামের মাঠে ভিকু মেশিন দিয়ে ড্রেন সদৃশ খনকাজের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের পাইপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো শ্রমিক বা কাজ চলমান অবস্থায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাখারুঞ্জ মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে গাজীউল হক চৌধুরী একটি ডিপ টিউবওয়েল পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি তার সেচ এলাকার পাশ দিয়ে নতুন করে পাইপলাইন স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতি ও প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে, যা তার সেচ কার্যক্রম ও আর্থিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্যঃ এ বিষয়ে অভিযোগকারী গাজীউল হক চৌধুরী বলেন, আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আমার সেচ এলাকায় জোরপূর্বক পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। আমি বাধা দিলেও কাজ বন্ধ করা হয়নি। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং পূর্বের মতো সেচ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধীমান চৌধুরী বলেন, “আমি আমার নিজস্ব ডিপ টিউবওয়েলের স্কিমের আওতায় পাইপ স্থাপন করছি। অন্য কারও সেচ এলাকায় প্রবেশ করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঃ এ বিষয়ে ক্ষেতলাল বিএমডিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ বলেন, “ডিপ টিউবওয়েলের পাইপ স্থাপন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অভিযোগের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।

সচেতনতামূলক বার্তা, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ বা স্কিম পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএমডিএ এবং উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতি নিতে হবে। সরকারি নিয়ম না মেনে অন্যের সেচ এলাকায় পাইপ স্থাপন করলে ‘সেচ পাম্প ও নলকূপ স্থাপন বিধিমালা’ অনুযায়ী জরিমানা ও পাইপ অপসারণের নির্দেশ আসতে পারে। এতে কৃষকের ফসলের ক্ষতি ও গ্রামীণ বিবাদ বাড়ে।

কৃষক ভাইদের প্রতি অনুরোধ: পাইপ বসানোর আগে নিজ স্কিমের সীমানা যাচাই করুন, প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা করুন এবং বিএমডিএ অফিস থেকে লিখিত অনুমতি নিন। সেচ নিয়ে বিরোধ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়, সমাধান আসে নিয়ম মানলে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin