শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
পানিতে ডু্বে ৫ শিশুর মৃ/ত্যুর হয়েছে- সকলের বয়স ৮- ১১ বছর চেক জালিয়াতির মা-মলা, ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রে-প্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্তঃসত্ত্বার সন্তান মা-রা যাওয়ার অভিযোগ মধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা উজিরপুরে ভিটেমাটি ও পারিবারিক কবরস্থান উচ্ছেদের হুম-কি প্রকৌশলীর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আপ্তাব নগরে ওসির নেতৃত্বে মাদক বিরোধী গণমিছিল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও ডিবির জালে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্র ও ভুয়া ডিবি সদস্য গ্রে-ফতার ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজির সাহিত্যের আলোয় নতুন পথচলা, দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ তেলীগ্রাম বাজারে সংঘ-টিত ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বুলবুল

মুকসুদপুরে নি/খোঁজ ইজিবাইক চালক শহিদুল মাতব্বর হ/ত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন: লা/শ উদ্ধার, গ্রে/প্তার-২

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৭৪ Time View

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানা এলাকায় নিখোঁজ ইজিবাইক চালক শহিদুল মাতব্বর (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ২ জন আসামিকে গ্রেফতারসহ ভিকটিমের ব্যবহৃত ইজিবাইক ও লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গত ০৬/০৬/২০২৬ তারিখ সকালে মুকসুদপুর থানার কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সালাম মাতব্বরের ছেলে শহিদুল মাতব্বর (৪৫) প্রতিদিনের মতো নিজের ইজিবাইক নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় গত ০৭/০৬/২০২৬ তারিখে ভিকটিমের স্ত্রী সাথী আক্তার বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনাটি জানার পর গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ’র সরাসরি নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ নাফিছুর রহমান (মুকসুদপুর সার্কেল), মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন এবং উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালাম মিয়া তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ০৮/০৬/২০২৬ তারিখে টেকেরহাট এলাকা থেকে ভিকটিমের চালিত ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
অটো উদ্ধার হলেও চালক নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাতেই সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে মুকসুদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রথমে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন ওরফে মাইকেল (৩২) এবং পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর সহযোগী পলাশ (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম শহিদুল, মাইকেল এবং পলাশ পরস্পর পরিচিত এবং নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। পলাশ ও মাইকেল মূলত ঋণে জর্জরিত থাকায় এবং নেশার টাকার জোগান দিতে ভিকটিম শহিদুলকে হত্যা করে তার অটো বিক্রির পরিকল্পনা করে। গত ০৬/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে নেশা করার কথা বলে তারা শহিদুলকে মাদারীপুরের রাজৈরে নিয়ে আসে। রাতে তারা কবিরাজপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন “মায়ের দোয়া মিম সাউন্ড সিস্টেম” নামক একটি কাঠের দোকানে অবস্থান নেয়। পানির বোতলে পূর্বে থেকে মিশ্রিত ঘুমের ওষুধ শহিদুলকে খাওয়ানো হয়। রাত গভীর হলে (০৭/০৬/২০২৬ খ্রি. আনুমানিক ভোর ০৩:৪০ ঘটিকায়) মাইকেল ও পলাশ মিলে শহিদুলের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি শহিদুলের অটোতে করেই কিশোরদিয়া, কাটাগাংপাড়, কবিরাজপুর এলাকার রাস্তার পাশের একটি গভীর জঙ্গলঘেরা খালের পাড়ে ফেলে রাখা হয়। এরপর তারা অটো রিক্সাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে আসে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়ে এবং অটোটি পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার হওয়ার পর আসামিরা ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, ধরা পড়লে বলবে— ডাকাত দল তাদের ওপর আক্রমণ করে শহিদুল ও তার অটো ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি, ভিকটিমের পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলার জন্য তারা পরবর্তীতে পেট্রোল কিনে এনে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুড়িয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং তাদের দেখানো স্থান থেকে ভিকটিম শহিদুল মাতব্বরের আগুনে পোড়ানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin