
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের ঈদ উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আমেজ। ঈদের দিন সকাল ৯টায় কারাগারে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে বন্দীদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে সেই চিরচেনা গান— “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”। গানের আবেশে অনেক বন্দিই যেন ভুলে যান তারা কারাবন্দি, কিংবা পরিবার থেকে দূরে রয়েছেন। তাদের মনে হচ্ছিল, যেন পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করছেন।
ঈদ উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের জন্য নেয় নানা উদ্যোগ। এমন আয়োজন পেয়ে বন্দীরা আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ক্ষণিকের জন্য হলেও তারা হারিয়ে যান এক ভিন্ন অনুভূতিতে।
শুধু বন্দীদের জন্যই নয়, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। সরেজমিনে দেখা যায়, সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খান তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করছেন। পাশাপাশি তাদের আপ্যায়ন করা হয় ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—পায়েস, মুড়ি ও মিষ্টি দিয়ে।
সাক্ষাৎ করতে আসা এক বন্দীর স্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে এসে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে আমাদের যে সম্মান, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বন্দীদের যেমন পায়েস-মুড়ি ও উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, দর্শনার্থীদেরও একইভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে। তার স্বামী কারাগারে থেকেও ঈদের দিনে এমন সুস্বাদু খাবার পাচ্ছেন—এটি জেনে তার ভালো লেগেছে। এ জন্য তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ঈদ উপলক্ষে মামার সঙ্গে দেখা করতে আসা আরেকজন জানান, এর আগে কারা কতৃপক্ষের এমন আয়োজন দেখা যায় নি। সত্য খুবই ভাল লেগেছে।
বন্দীদের জন্য এমন আয়োজনে সব বন্দী খুবই আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা ক্ষণিকের জন্য হলেও হারিয়ে গিয়েছিলেন অন্য আবেশে নিজের মধ্যে। শুধু বন্দীদের জন্য নয়, তাঁদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতের জন্য আগত আত্মীয়স্বজনের জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগত দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। তাঁদের আপ্যায়ন করছেন ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পায়েস মুড়ি মিষ্টি দিয়ে।
জনৈক বন্দীর স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা বেগম (ছদ্মনাম) জানান, ঈদ উপলক্ষে তিনি কারাগারে থাকা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। এখানে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের যে সম্মান অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করেছে, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। শুধু তাঁকে নয়, সবার জন্যই এই ব্যবস্থা কারা কর্তৃপক্ষ রেখেছে। এ বিষয়গুলো তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এ ছাড়া বন্দীদের যেভাবে পায়েস মুড়ি খাওয়ানো হয়েছে, তাদেরও একইভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর স্বামী কারাগারে এ ধরনের সুস্বাদু পায়েসসহ ঈদের দিনে উন্নত মানের খাবার খাচ্ছেন, তা জানতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। তিনি কারা কর্তৃপক্ষের এই আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ ছাড়া আগামী তিন দিন বন্দীদের বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া, তাঁদের বিশেষ সাক্ষাৎ, বিশেষ ফোনকল সুবিধা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, কারাগারের ভেতরে বন্দীদের প্রকৃত ঈদের আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি এই ব্যবস্থা করেছেন। অন্তত তাঁরা একটি দিনের জন্য হলেও ভুলে থাকতে পারেন যে তাঁরা বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন, তাঁরা যেন মনে করেন যে তাঁরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদের দিনে বন্দী ও তাদের স্বজনদের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের এই সার্বিক আয়োজন ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।