
বানারীপাড়া প্রতিনিধি //
বরিশালের বানারীপাড়ায় আদালতের রায়ের চার মাস পর বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ মাসের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন।
তিনি জানান, আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতের সাজার রায়ের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। রোববার মামলার বাদীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে পরদিনই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে তিনি যদি পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিল করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় চাকরিতে ফিরতে পারবেন।
এদিকে আদালতের রায়ের চার মাস পরেও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার নিয়মিত অফিস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. খোরশেদ আলম সেলিম এ অভিযোগ করেন।
গত ৩ মার্চ তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তারকে বরখাস্ত ও গ্রেফতারের দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব বলেন, আদালত থেকে কোনো আদেশ পাওয়ার বিষয়টি আগে তাকে জানানো হয়নি। আছমা আক্তার মামলার বিষয়টি গোপন রেখে নিয়মিত অফিস করেছেন এবং বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ জুন বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বানারীপাড়া পৌর শহরের বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. খোরশেদ আলম সেলিমের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা ধার নেন। পাঁচ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা পরিশোধ করেননি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সোনালী ব্যাংকের বরিশাল সাগরদী শাখার ৮ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ২৬ ফেব্রুয়ারি তা ডিজঅনার হয়ে যায়।
পরে ৬ মার্চ ডা. খোরশেদ আলম সেলিম তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের দাবি জানান। তবুও টাকা পরিশোধ না করায় ২৩ এপ্রিল বরিশাল প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর আছমা আক্তার আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক অবস্থায় নিয়মিত অফিস করে আসছিলেন। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর আদালত তাকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন এবং রায় বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়ার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভূমিসেবা প্রত্যাশীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও অনেকের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অভিযোগ বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
মোঃ সাব্বির হোসেন ।।