
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী থানাধীন ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া, পটকা বিস্ফোরণ, মিছিল ও আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড এলাকায় দেশীয় তৈরি অস্ত্র—চাপাতি, রামদা/হাসুয়া, এসএস পাইপ দ্বারা তৈরি অস্ত্র এবং সুইচ গিয়ার—নিয়ে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল দাঙ্গাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্যে মহড়া দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই এলাকায় পটকা ফোটানো, অস্ত্র প্রদর্শন, মিছিল, ভীতি প্রদর্শন, ছোটাছুটি ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ বিসিক শিল্পনগরীসহ কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
১. ফরহাদ হোসাইন (২২) — পিতা: দুলাল মিয়া, মাতা: মৃত রওশনারা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা: রামপুর (খোরশেদ মিয়ার বাড়ি), বর্তমান ঠিকানা: শাসনগাছা (বাদল মিয়ার ভাড়াটিয়া)।
২. ইব্রাহিম হোসেন জসিম (২২) — পিতা: সুরুজ মিয়া, মাতা: খোরশেদা বেগম, ঠিকানা: নিশ্চিন্তপুর, পাঁচথুবী ইউপি।
৩. শাহাদত হোসেন শান্ত (১৯) — পিতা: সোহেল রানা, মাতা: মাহমুদা আক্তার, ঠিকানা: অশোকতলা।
৪. তানভীর আহম্মেদ (১৬) — পিতা: হুমায়ুন কবির, মাতা: লিপি আক্তার, ঠিকানা: শাসনগাছা (মালেক মিয়ার বাড়ি)।
৫. সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ রিতিক (১৭) — পিতা: লাভলু মিয়া, মাতা: শারমিন বেগম, ঠিকানা: আড়াইওড়া (কাজী বাড়ি)।
সবার থানা: কোতয়ালী মডেল থানা, জেলা: কুমিল্লা।
পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও আটক কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৩ এপ্রিল ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড এলাকায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এবং অস্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়।
তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে পুলিশ কোতয়ালী মডেল থানাধীন বিসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অশোকতলা বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন নোনাবাদ পুকুরের পূর্ব পাড়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি অভিযান চালায়।
উদ্ধার করা হয়:
০৪ (চার)টি দেশীয় তৈরি রামদা/হাসুয়া
০১ (এক)টি এসএস পাইপ দিয়ে তৈরি দেশীয় অস্ত্র, যার সামনের অংশে গোলাকৃতির ব্লেড সদৃশ অংশ ছিল
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও আটক কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নাম-ঠিকানা প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত আরও ১৪ জনের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে। তবে অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর নাম তারা জানে না বলে জানায়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের মহড়া এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।