
এম এ আলম রিপন,সুজানগর : হাজার লোকজ ঐতিহ্যকে ধারণ করে পাবনার সুজানগরের পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ আর নদী পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ছয়দিন ব্যাপি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার। মালিফা হাবিব স্মৃতি সংঘের আয়োজনে স্থানীয় পদ্মা নদীতে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার ফাইনাল রাউন্ডে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাকে পরাজিত করে নিউ শাপলা নৌকা চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ৩য় স্থান অধিকার করে লালন শাহ এক্রপ্রেস কুষ্টিয়া। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ.কে.এম সেলিম রেজা হাবিব । বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডক্টর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ডক্টর জাকির হুসাইন, পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপ পরিচালক স্থানীয় সরকার (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদী হাসান, সহকারী কমিশনার ও পাবনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর নন্দী সরকার নয়ন ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির টান লুকিয়ে আছে এই নৌকার বৈঠার টানে। আজ মালিফা পদ্মা নদীর পাড়ে হাজার হাজার মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় এবং তাদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও আমাদের লোকজ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা এতটুকু কমেনি। তিনি আরও বলেন,এই প্রতিযোগিতা আমাদের যুবসমাজকে মাদক, মোবাইল আসক্তি এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও সুন্দর বিনোদনের পথ দেখাবে। খেলাধুলা মানুষের মনকে উদার করে এবং একতাবদ্ধ হতে শেখায়। নৌকা বাইচের প্রতিটি বৈঠার সুসংগত টান আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এর আগেদুপুর গড়াতেই মালিফা পদ্মার পাড়ে ভিড় জমান নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষ। কেউ নদীর পাড়ে দঁাড়িয়ে, কেউবা নৌকায় চড়ে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা। কঁাসর-ঢোলের তালে ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ গানের সুরে বৈঠা হাতে ঢেউয়ের বুকে ছুটে চলেন মাঝি-মাল্লারা। তাদের ছন্দময় বৈঠার আঘাতে মুখর হয়ে ওঠে পদ্মার জলরাশি।প্রতিযোগিতা শুরুর আগে মাঝিদের মধ্যে দেখা যায় আবেগঘন মুহূর্ত। কেউ পানিতে ডুব দিয়ে, আবার কেউ নৌকায় মাথা রেখে মোনাজাত করে নদীতে নামেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় নিউ শাপলা নৌকা চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এদিকে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সুজানগর উপজেলার মালিফা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। নদীসংলগ্ন এলাকায় বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। মৃৎশিল্প, কঁাসা-পিতলের সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, শিশুদের খেলনা ও মুখরোচক মিষ্টির পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বিনোদনের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইড এর আয়োজন।নৌকা বাইচ দেখতে সুজানগর পৌর এলাকা থেকে স্কুল পড়–য়া মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন হাসান উদ্দিন । তিনি বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে জাগিয়ে রাখতে হলে নদীকে বঁাচিয়ে রাখতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা কোমল খান বলেন, প্রায় ২০ বছর পর আবারও এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এটি এখন তাদের গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ফিরোজ রেজা হাবিব বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার শিকড়ের সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন ঐতিহাসিক জনসমাগমে রূপ নিয়েছে। পুুরস্কার বিতরণী অনুষ্টানে অন্যান্যদের মাঝে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবাহান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস, পৗর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন বিশ্বাস, বিএনপি নেতা আহমেদ আলী প্রমানিক লাটু, হারুন হাজারী, বাবুল হোসেন সরদার, আবদুল হাই, নাদের হোসেন, হারুন মন্ডল, বেড়া উপজেলা বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, সুজানগর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডল, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন, সদস্য সিবলী এমরান, আবুল কাশেম ও সাকিবুল ইসলাম ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এম এ আলিম রিপন
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।