সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
বিএমডিএ’র সেচ প্রকল্প হু-মকির মূখে মোহনপুরে কৃষকদের নিয়ে কৃষি বিভাগের উঠান তেঁতুলিয়ায় শিশু ধ/র্ষণ মানববন্ধনে বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান নেপালের ব-ন্যা জলবায়ু দুর্যো/গ যখন সীমান্ত পেরিয়ে যায় – নিকোলাস বিশ্বাস ময়মনসিংহে পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স এর সীরাত সেমিনার সাবেক আইজিপি এম. এনামুল হক মা/রা গেছেন ‎মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান পাইকগাছায় চাঞ্চল্যকর ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান: আসল কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ক্ষেতলালে ফেনসিডিলসহ ৩ আ-সামি গ্রে-প্তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পিক-আপের ধাক্কায় হেলপার নিহ/ত,আহ/ত -৩

বিএমডিএ’র সেচ প্রকল্প হু-মকির মূখে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ Time View

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একশ্রেণীর কর্মকর্তার নেপথ্যে মদদে, অবৈধ মটর থেকে নির্বিচারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প হুমকির মূখে পড়েছে। জানা গেছে,প্রচন্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশাল এলাকা জুড়ে ভূ-গর্ভের পানির স্তর তলানিতে ঠেকেছে।পানির স্তর এতটাই নিচে নেমেছে যে এখন বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আট উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন (ইউপি) এলাকায় ১৭০ ফুট খনন করেও পানি উঠছে না গভীর নলকূপে। এসব এলাকার হাজারও হস্তচালিত নলকূপ এক দশক আগেই অচল হয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির ১৮তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪ হাজার ৯১১টি মৌজাকে আগামী ১০ বছরের জন্য
পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মৌজা পড়েছে ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে । এরমধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন, ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজাকে উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এবং ৬৬টি ইউনিয়নের এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংকটে যেসব এলাকা: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির গড় স্তর ছিল ২৬ ফুট নিচে। ক্রমাগত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় ২০১০ সালে পানির স্তর নেমে যায় ৫০ ফুট নিচে। ২০২১ সালে এ স্তর আরও নিচে নেমে দাঁড়ায় ৬০ ফুটে। এখন বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় পানি নেমে গেছে ১১৩ ফুটেরও নিচে।
অন্যদিকে অভিজ্ঞ মহল বলছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে, ভুউপরস্ত পানির ব্যবহার ও গভীর নলকুপ ব্যতিত সমস্ত সেমিডিপ (অগভীর) নলকুপ এবং যেসব শিল্প ও আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ বানিজ্যে করছে সেসব সংযোগ বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন। কারণ গভীর নলকুপে উত্তোলনে পানির ৮০ শতাংশ ব্যবহার ও ২০ শতাংশ অপচয় হয়।কিন্ত্ত অগভীর নলকুপ বা সেমিডিপে উত্তোলনের পানি প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবহার ও ৬০ শতাংশ অপচয় হয়।অব্যাহত পানি সংকট মোকাবিলা ও ভূ-গর্ভের পানির স্তর রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভু-গর্ভের পানির স্তর ধরে রাখতে, সেচ নির্ভর বোরো চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত ও কম সেচ লাগে এমন ফসলের চাষাবাদ করাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ পল্লী বিদ্যুতের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে আবাসিক ও অবৈধ মটর থেকে নির্বিচারে সেচ বাণিজ্যে করে ভু-গর্ভ স্তরের পানি অপচয় করা হচ্ছে। এতে বিএমডিএর নেয়া ভূ-গর্ভস্থ পানি ধরে রাখার উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে,এর দায় নিবে কে? এসব কারণে কৃষিবান্ধব প্রতিষ্ঠানের ভবিষৎ নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এলাকার হাজার হাজার কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব অবৈধ মটরে সেচ বাণিজ্য করায় বিএমডি’র অধিকাংশ গভীর নলকুপ ভু-গর্ভস্ত পানির লেয়ার ফেল করায় অকেজো হয়ে পড়ছে। তানোরে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩০টি গভীর নলকুপ অকেজো হয়ে পড়েছে। একটি গভীর নলকুপ যে পানি উত্তোলন করে তার প্রায় ৮০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও ২০ ভাগ অপচয় হয়। অথচ একটি মটরে যে পানি উত্তোলন হয় তার মাত্র ৪০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও প্রায় ৬০ ভাগ অপচয় হয়। ফলে অবৈধ মটরে উত্তোলন করা পানির বিপুল পরিমাণ অপচয় হওয়ায় গভীর নলকুপগুলো ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার ফেল করছে।
জানা গেছে,উপজেলায় বিএমডিএ’র ৫৩৬টি ও ব্যক্তিমালিকানা ১৬টি মোট ৫৫২টি গভীর নলকুপ রয়েছে।এছাড়াও অগভীর নলকুপ বিদ্যুৎ চালিত ৪১১টি ও ডিজেল চালিত ৫০টি, এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত ৩টি, ডিজেল চালিত ৩৫০টি, মোট এক হাজার ৩৬৬টি সেচ পাম্প রয়েছে।
উপজেলায় আবাদযোগ্য কৃষি জমি রয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভুত জমি রয়েছে এক হাজার ৬৬২ হেক্টর। একফসলী জমি ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিনফসলী ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর, নীট ফসলী জমি ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, নিবিড়তা ২৭৮ শতাংশ ভূমি ব্যবহার ৮২ শতাংশ। উচুঁ জমি ২০ হাজার ৩৮৬ হেক্টর, মাঝারি উচুঁ জমি এক হাজার ৫৭৮ হেক্টর, মাঝারি নিচুঁ জমি এক হাজার ৫৫৩ হেক্টর ও নিচু জমি ৪৭৬ হেক্টর রয়েছে।
অন্যদিকে তানোরে পল্লী বিদ্যুতের মোট গ্রাহক রয়েছে আবাশিক ৫৬ হাজার ৬৮৩টি,শিল্প
সংযোগ ৭১৪টি, সেচ সংযোগ ৯৫০টি,
বানিজ্যিক সংযোগ ৪ হাজার ১৪৬টি,দাতব্য এক হাজার ৮৭টি ও অন্যান্য সংযোগ ৪১৪টি। বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৮ মেঘাওয়াট।
সুত্র জানায়,বাসা
কিন্ত্ত গভীর নলকুপ স্কীমের মধ্যে ও বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে ২ থেকে ৪ হর্সপাওয়ার মটর স্থাপন করা হয়েছে। আবার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ এসব অবৈধ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। সুত্র জানায়, এসব অবৈধ মটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করতে না পারলে, আগামিতে এই অঞ্চলে সেচ তো দুরের কথা মানুষকে খাবার পানি কিনে পান করতে হবে।
জানা গেছে বিগত ২০১৪ সাল থেকে উপজেলায় সেচ কমিটির অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এই অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় মটর স্থাপন নিরুৎসাহিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়। এছাড়াও ২০২৬ সালের পানি আইনে প্রচন্ড খরাপ্রবণ এলাকায় সেচ মটর (পাম্প) স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে,এমনকি খাবার পানির মটর বসাতেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির দুবইল গ্রামের গোলাম রাব্বানী লেলিন, শফিকুল ইসলাম, ডামফু, জানিফ আলী,
কোয়েলহাটের জালাল, তালন্দ ইউপির কালনা উত্তরপাড়া গ্রামের হাসান আলী ও জসিম,বাধাইড় ইউপির শসানতলা গ্রামের শাহজাহান আলী, বৈদ্যপুর গ্রামের আবুল হায়াৎ, বড় বাধাইড় গ্রামের আশিকুল, লালচাঁন, রতন বর্মন,প্রকাশনগর মহল্লার জামাল, রাসেল,আয়েন উদ্দিনসহ বিভিন্ন বাড়িতে অবৈধ মটর স্থাপন ও পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগ নিয়ে সেচ বানিজ্যে করছেন। উপজেলা জুড়ে এই রকম শত শত অবৈধ মটর রয়েছে, যারা আবাসিক সংযোগ নিয়ে সেচ বাণিজ্যে করছে।
অথচ নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ দেয়া হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা।কিন্ত্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে পল্লী বিদ্যুৎ জরিমানার নামে প্রতি মাসে এসব সংযোগ প্রতি ১৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অথচ সেচ নীতিমলা অনুয়ায়ী আবাশিক সংযোগ থেকে কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হলে সেই মটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা। আর গভীর নলকুপ স্কীমে তো মটর স্থাপনের কোনো সুযোগ নাই। তবে পল্লী বিদ্যুৎ এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে জরিমানার নামে বাণিজ্য করছে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছে।
এবিষয়ে বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান বলেন, গভীর নলকুপের কমান্ড এরিয়ায় সেচ মটর স্থাপনের কোনো সুযোগ নাই,আর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না,এমনকি আবাশিক সংযোগ থেকে সেচ দেয়া যাবে না।
এবিষয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রেজাউল করিম খাঁন জানান, রোবো চাষাবাদ শুরুর আগে কৃষকদের সেচ না দিতে এলাকা এলাকা মাইকিং করে প্রচারণা করা হয়েছে। কৃষি বিভাগসহ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সভা করে বোরো সেচ না দেয়ার ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবু কৃষকেরা সেচ বন্ধ করেনি। তাই ৫৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার কৃষকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ডিজিএম আরো বলেন, যদি এসব কৃষক অফিসে এসে আর সেচ দিবে না এ মর্মে লিখিত দেন তাহলে আর জরিমারা করা হবে না।#

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin