
নিজস্ব প্রতিবরদক, রাজশাহী: আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় জামিন পেতে আদালতে জাল প্রত্যয়নপত্র দাখিলের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আলোচিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির সক্রিয় কর্মী দাবি করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে দুটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করা হয়। সেই কাগজের ভিত্তিতেই গত ১২ আগস্ট রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
তবে জামিনের পরই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রত্যয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষর ও সিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আর বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যেও মিলছে না আবুল কালামের দেওয়া রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে। এ নিয়ে পৌর বিএনপির নেতাদের দ্বিমূখী আচারণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‘স্বাক্ষর আমার নয়’-সাবেক মেয়রের দাবি
আদালতে দাখিল করা দুটি প্রত্যয়নপত্রের একটিতে গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। কিন্তু আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয়। তাঁর দাবি, প্রত্যয়নপত্রটি জাল।
অন্য প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হানিফ আলী। তিনি অবশ্য স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবেশী হওয়ায় আবুল কালামের স্ত্রীর অনুরোধে তিনি প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি এটিকে ‘ভুল’ হিসেবে দাবি করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে হেরোইন কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডও হয়েছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে ছিলেন আবুল কালাম। গত ২০ জুলাই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
‘বিএনপির কর্মী’ পরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা
শুধু আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রই নয়, বিএনপির কর্মী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে আবুল কালামের বিরুদ্ধে।
জাল কাগজে জামিন-তদন্তের দাবি
আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আবুল কালামকে ফের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন
অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি সুজন মিঞা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোনো অপরাধে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।